kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

ডোমারে সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় কেতকিবাড়ী ইউনিয়নে তিন উপকারভোগীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল চার বছর ধরে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

সংশ্লিষ্ট ওই ডিলারের নাম রবিউল ইসলাম স্বাধীন। তিনি কেতকিবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অপরজন ওই ইউনিয়ন পরিষদেরই দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জিয়াউর রহমান বাবুজি।

অভিযোগ মতে, কেতকিবাড়ী ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড রয়েছে উত্তর কেতকিবাড়ী গ্রামের জুয়েল (২৬), কার্ড নম্বর ১৬৭, রশীদ (৩০), কার্ড নম্বর ২০৮ ও জাহেদা (৫০), কার্ড নম্বর ২১৬। যা অনুমোদন হয় ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর। সংশ্লিষ্ট ডিলার ও ইউপি সদস্য তাঁদের নামের চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। চলতি করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণের সুবিধাভোগী নির্বাচনকালে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর তালিকা যাচাইয়ে বিষয়টি জানাজানি হয়।

বিষয়টি অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ডিলার রবিউল ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘তাঁরা তো নিয়মিত চাল উত্তোলন করে আসছেন।’ একই কথা বলেন ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বাবুজি।

এ বিষয়ে কেতকিবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম দিপু বলেন, ‘গত ১৯ মে ১০ টাকা কেজির চালের উপকারভোগীদের চেনার জন্য ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তাদের কার্ড জমা নিই। এরপর এসব কার্ড নিজে উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দিলে ওই অনিয়ম ধরা পড়ে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে।’

এদিকে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ‘বিষয়টি সত্য হলেও সেটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বঞ্চিত ওই কার্ডধারীদের ম্যানেজ করে অভিযোগটিকে মিথ্যা প্রমাণের অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। তাঁদের ওই অপচেষ্টা সফল হলে সমাজে আরো দুর্নীতি বাড়বে।’ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রকাশ্যে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নামার জন্য অনুরোধ জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাহমুদ হাচান জানান, নিরপেক্ষতার স্বার্থে ফুড অফিসের কাউকে তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যে তাঁরা তদন্ত রিপোর্ট দেবে। সে অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তাঁরা তদন্তের কাজ শুরু করেছেন। প্রতিবেদন আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা