kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

মহাদেবপুরে ফসলি জমিতে পুকুর খনন

আশঙ্কাজনক হারে কমছে আবাদি জমি

মহাদেবপুর-বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহাদেবপুরে ফসলি জমিতে পুকুর খনন

নওগাঁর মহাদেবপুর ধান ও সবজি চাষ নির্ভর একটি উপজেলা। এখানে উৎপাদিত শস্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় খাদ্যভাণ্ডারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্তমানে সেই ফসলি জমিতে অবাধে চলছে পুকুর খনন। ফলে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে চাষের জমি।

এক শ্রেণির পুকুর ব্যবসায়ী দিন-রাত খনন করে সেই মাটি আবার মহাদেবপুর, পত্নীতলা, মান্দা ও নওগাঁ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় বেচে দিচ্ছেন। এতে কৃষক হারাচ্ছেন তাঁদের উর্বর জমির উপরিভাগ। অন্যদিকে পুকুর ব্যবসায়ীরা আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে যন্ত্র দিয়ে জমি খনন করে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জমির শ্রেণি পরিবর্তন হচ্ছে, অন্যদিকে আবাদি জমিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ব্যাহত হচ্ছে সেচব্যবস্থাও। নদী-নালা, খাল-বিল বাদে উপজেলায় প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে।

শ্রেণিভেদে প্রায় সব জমিতে সারা বছর কোনো না কোনো ফসল আবাদ হয়। গত দুই বছরে উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় প্রায় ৮০০ বিঘা জমি পুকুরে পরিণত হয়েছে। কৃষকরা প্রতি বিঘা জমি ১০-১২ হাজার টাকায় ৫-১০ বছর মেয়াদে চুক্তিনামা করে খননের জন্য ব্যবসায়ীদের লিজ দিচ্ছেন। সেসব জমিতে খননযন্ত্র বসিয়ে চারদিকে বাঁধ দিয়ে ১০-১২ ফুট গভীর করে চলছে খনন। আবার সেই জমির মাটি প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) ৪০০-৫০০ টাকায় বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়রা জানান, মহাদেবপুর সদর ইউনিয়নের খাপড়া মৌজার ছয় বিঘা তিন-ফসলি উর্বর জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। উপজেলা সদরের কাচারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা কালাম কাজী ও তার ছেলে সাঈদ কাজী ভূমি আইন উপেক্ষা করে এই পুকুর খনন করছেন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে পুকুর খননের বিষয়টি স্থানীয়রা গত ৩১ মে রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সরেজমিনে গিয়ে খননকাজ বন্ধ করে দেন এবং খননযন্ত্রের চাবি জব্দ করেন। এদিন সন্ধ্যায় কালাম কাজী ও তার ছেলে সাঈদ কাজী আবারও দুটি যন্ত্র বসিয়ে খননকাজ শুরু করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাঈদ কাজী বলেন, ‘প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই পুকুর খনন করছি। গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করলে প্রশাসন মন খারাপ করবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘পুকুর খননের ফলে ফসলি জমি হ্রাস পাচ্ছে। এতে ফসলের উৎপাদন কমছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুর খনন করতে নিষেধ করেছি। তবে কেউ মানছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাঈদ কাজীকে তিন-ফসলি জমিতে পুকুর কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। শ্রেণি পরিবর্তন করে ফসলি জমিতে পুকুর কাটা যাবে না। এ ছাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোকে ফসলি জমিতে পুকুর খননকারীদের তালিকা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা