kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

ধুনটে হোমিও চিকিৎসার আড়ালে মাদক কারবার

প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগ নিচ্ছে কারবারিরা

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর করোনাভাইরাস সুরক্ষা কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকার সুযোগ নিচ্ছে মাদকসেবীরা। তাদের সঙ্গে জড়িয়েছেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আশরাফুল ইসলাম ওরফে লাল মিয়া (৫৫) নামের এক হোমিও চিকিৎসককে ২৮ বোতল রেক্টিফায়েড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য। পল্লী চিকিৎসক আশরাফুল ইসলাম ঈশ্বরঘাট গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে এবং শৈলাক হোমিও ফার্মেসির মালিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেক্টিফায়েড স্পিরিট তরল রাসায়নিক পদার্থ। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে জীবন রক্ষায় ব্যবহৃত এই উপাদানটি ভয়ংকর মাদক হিসেবে চিহ্নিত।

এ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারসহ গ্রাম পর্যায়ে যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠেছে কমপক্ষে ২০০টি অনুমোদনহীন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসালয়। নামধারী চিকিৎসকরা সর্বরোগের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। প্রচারপত্র বিলি করার পরও তেমন রোগী না হওয়ায় তাঁরা মাদকসেবীদের কাছে রেক্টিটিফায়েড স্পিরিট বেচেন। প্রতি বোতলের দাম ২০ টাকা। কিন্তু হোমিও চিকিৎসকরা একটি বোতল কমপক্ষে ২০০ টাকায় বেচেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদকসেবীরা জানায়, করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষ ঘরবন্দি। বন্ধ দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল। তাই ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সহজে মিলছে না। আবার দুই- একজনের কাছে পাওয়া গেলেও দাম বেশি। এ কারণে মাদকের বিকল্প হিসেবে কম দামে হোমিও চিকিৎসকদের কাছ থেকে রেক্টিফায়েড স্পিরিট কিনে নেশা করে। পুলিশের ঝামেলা ছাড়াই সহজে স্পিরিট কিনতে পাওয়া যায়।

ধুনট থানার পরিদর্শক কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, রেক্টিফায়েড স্পিরিট সেবনে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধান করে বিক্রেতা হিসেবে এক হোমিও চিকিৎসকের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। ফার্মেসিতে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ২৮ বোতল স্পিরিটসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব হোমিও ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হবে।

মন্তব্য