kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

বাগমারায় রকির টর্চার সেল

এমপি এনামুল হকের ভাতিজা রকির বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাগমারায় রকির টর্চার সেল

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এনামুল হকের ভাতিজা হাসান তারিক ওরফে রকি (২৮)। রকির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এলাকায় জমি দখল, পুকুর দখল থেকে শুরু করে মেয়েদের উত্ত্যক্ত, চাঁদাবাজিসহ ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ করেন। এসব করতে গিয়ে বাগমারা উপজেলার শিকদারীতে গড়ে তুলেছেন টর্চার সেল (নির্যাতন কক্ষ)।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র মতে, সাঁকোয়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে হাসান তারিক ওরফে রকি। এলাকায় বখাটে রকি নামে পরিচিত। তিনি সব সময়ে সাত-আটজন সহযোগী নিয়ে চলাচল করেন। এই সহযোগীরা এখন পলাতক। তাদের কারো বাড়ি উপজেলার তাহেরপুরে, কেউ ভবানিগঞ্জ এলাকার, কেউ ঝিকড়া এলাকার, আবার কেউ রাজশাহীর বাসিন্দা। বাইরের সন্ত্রাসীদের নিয়ে রকি গড়ে তুলেছিলেন বাহিনী।

এদিকে আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই রকি এলাকায় পুকুর দখল, জমি দখল থেকে শুরু করে ইয়াবা ব্যবসারও নিয়ন্ত্রণ করতেন। পাশাপাশি এলাকায় নারীদেরও উত্ত্যক্ত করতেন। সেই সঙ্গে চাঁদাবাজি করতেন। সাঁকোয়া এলাকায় তাঁর বাড়ি হলেও শিকদারী এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়িতে তিনি সময় কাটান। রাজশাহী নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত তাঁর। আবার শিকদারীতে প্রবাসীর ওই বাড়িটিতে তিনি গড়ে তোলেন টর্চার সেল। এখানে লোকজনকে ধরে এনে চালাতেন নির্যাতন। স্থানীয় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই চলত এই টর্চার সেল। আবার বাগমারা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরেও ছিল রকির অবাধ বিচরণ। নামে-বেনামে রকি একাধিক প্রকল্প হাতিয়ে নিয়ে সরকারি অর্থ তছরুপ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমপির ভাতিজা পরিচয় দিয়ে গোটা বাগমারা দাপিয়ে বেড়াতেন তিনি। এলাকাবাসী তাঁর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না।

এই টর্চার সেলে গত ২৬ মে এক বান্ধবীসহ যুবককে ধরে নিয়ে এসে হাত-পা বেঁধে দুই দিন ধরে নির্যাতন চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীর সহযোগিতায় যুবককে উদ্ধার করা হয়। যুবক আতাউর বাগমারা কৃষি বিভাগের এমএলএসএস। এ ঘটনার পর রকি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে একটি মামলা।

এমপি এনামুলের ভাই ফরহাদ হোসেন জানান, রকি সম্প্র্রতি বাড়িতে ঢুকে তাঁর ছেলেকে পিটিয়েছে। তাঁর ছেলে সম্পর্কে রকির চাচাতো ভাই হয়। এ ছাড়া তাঁদের আরেক ভাই রেজাউলের স্ত্রীকে বাড়িতে ঢুকে মারধর করেন রকির বাবা তোফাজ্জল হোসেন। রকির সাহসে তোফাজ্জল এ কাজটি করেন। এ ঘটনায় পুলিশ তোফাজ্জলকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু রকি বরাবরই থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি এলাকায় মাদকের ব্যবসা করেন। এলাকায় এমন কোনো অপকর্ম নেই তিনি করেন না। কিন্তু প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চোখ ও হাত বাঁধা আতাউরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাতে আতাউর রহমান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে রকি ও তাঁর সহযোগীরা পলাতক রয়েছেন।

অন্যদিকে রকির এসব অপরাধ নিয়ে জানতে চাইলে বাগমারা থানার পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, ‘সে এলাকায় বখাটে বলে পরিচিত। এ ছাড়া নানা অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য আসছে। এগুলো খুঁজে দেখা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মন্তব্য