kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

নাগেশ্বরীতে ইটভাটায় ফসল ঘরবাড়ির ক্ষতি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নাগেশ্বরীতে ইটভাটায় ফসল ঘরবাড়ির ক্ষতি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্ধ ইউনিয়নের ভাঙামোড় গ্রামে ভাটায় ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত ও কলাবাগান। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভাঙামোড় গ্রামে ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান, ফলের গাছ, বাঁশঝাড় ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির শিকার হয়েছেন প্রায় ১০০ কৃষক ও দিনমজুর পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ভাটা মালিকের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও তাঁরা কালক্ষেপণ করছেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিন জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী সড়কের কুমরপুর বাজারের কাছে এআইবি ও কেজিবি নামে দুটি ইটভাটা থেকে নির্গত গ্যাসের ধোঁয়ায় অন্তত ৩০ বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন জাতের গাছের পাতা বাদামি রং ধারণ করে ঝরে পড়ছে। বাঁশঝাড়, কলাবাগানের কলাগাছের পাতা আর কাণ্ড ঝলসে গেছে। পরিপক্ব হওয়ার আগেই আম, নারকেল, লিচুসহ বিভিন্ন ফলের গাছ থেকে ঝরে পড়ছে ফল।

ভাঙামোড় গ্রামের আবেদ আলীর ধান ক্ষেতের পাশাপাশি বাঁশঝাড় ও গাছের ক্ষতি হয়েছে। একই অবস্থা তমেজ আলী, শুকুর আলী ও ইসমাইল হোসেন, রসুল মিয়া, রফিকুল ইসলাম, মর্জিনা বেগমসহ অনেকের।

বিধবা জোবেদা বেওয়ার দুটি ঘরের টিন নির্গত ধোঁয়ার কারণে নষ্ট হয়ে খুলে পড়েছে। এরপর কয়েক দিন আগে ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে ঘর দুটি। এখন এই ঘরে থাকা যাচ্ছে না।

গত বছরও ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় ফসলের ক্ষতি হলেও মাত্র কয়েকজনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অনেকেই কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

ভিতরবন্ধ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলী জানান, ভাটার ধোঁয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নামে টালবাহানা করছেন ভাটার মালিকরা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

গত বুধবার কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তৈরি ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি সরেজমিন তদন্ত করে উপজেলা কৃষি অফিসে রিপোর্ট দিয়েছেন। ইটভাটার কারণে প্রায় ৩০ বিঘা ধান ক্ষেত ও ৮৭টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এআইবি ভাটার ম্যানেজার পূর্ণচন্দ্র ভাটার কারণে ক্ষতির কথা স্বীকার করে জানান, কিছু লোককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাসুম বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। তবে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা