kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

হাঁটুপানিতে ঈদের জামাত

সমস্যা, নাকি ষড়যন্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সমস্যা, নাকি ষড়যন্ত্র

খুলনার কয়রায় হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনার কয়রায় হাঁটুপানিতে ঈদের নামাজের সংবাদ ও ছবি ফেসবুকে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি সমস্যার ভয়াবহতা বোঝানোর জন্য? নাকি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে?

এ নিয়ে কয়রার সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে দুই ধরনের মতামত পাওয়া গেছে। এক দল মনে করে, ভেঙে যাওয়া বাঁধ আটকানোর পণ ছিল এলাকাবাসীর, এ কারণে তারা সময় নষ্ট না করে সেখানেই ঈদের নামাজ পড়ে। অন্য পক্ষের বক্তব্য, নামাজ পানিতে না পড়লেও চলত।

প্রকৃতপক্ষে সেদিন ২ নম্বর কয়রা এলাকার বাঁধের পাশে তিনটি ঈদের জামাত হয়। এর দুটি হয় বাঁধের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে এবং একটি হয় পানির মধ্যে। বাঁধের উত্তর পাশে জামাতে ইমামতি করেন কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির; দক্ষিণ পাশের জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং পানির মধ্যে অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন খুলনা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও কয়রা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দিন। এই তৃতীয় জামাতের ছবিটি প্রচার হয়। এই জামাতে অংশ নেন কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম (নির্বাচনে তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী, এ কারণে বহিষ্কৃত), ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান প্রমুখ।

এলাকাবাসী জানায়, ২ নম্বর কয়রার চারটি জায়গায় বাঁধের ভাঙনে সদর ইউনিয়ন পানিতে থইথই করছে। উপজেলা সদরের অফিসগুলো এক হাঁটুপানির তলায়। বেড়িবাঁধের ভাঙন দিয়ে প্রতি জোয়ারে পানি উঠছে। এলাকাবাসী শুরু থেকে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। প্রতিদিন ভাটার সময় কয়েক হাজার মানুষ বাঁধ আটকানোর কাজ করছিল। এর মাঝেই গত সোমবার ছিল ঈদুল ফিতর। এদিনও সকালে ছিল ভাটা। এলাকাবাসী যথারীতি বাঁধ আটকানোর কাজে হাজির হয়। কেউ কেউ সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেই বাঁধের কাজ শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু জোয়ার এলে কাজ করা যাবে না, তাই বাঁধ আটকানোর কাজ শুরু হয়। বাঁধের কাজ শেষ করে সকালে  সেখানকার মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করে।

উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদের আগে তিন দিন ধরে বাঁধ আটকানোর জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকাসী মাটির কাজ করছিল। ভাটার সময়ই যেহেতু কাজ করা যায়, সময়ের কারণে এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নেয়, পানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের নামাজ পড়বে। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে রাজনীতি খোঁজা ঠিক না।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সুপরিকল্পিতভাবে সরকারকে হেয় করার জন্য পানিতে নামাজ আদায় করেছে। এ কাজে সহায়তা করেছেন যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।’

মন্তব্য