kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

ধুনট

টুপির কারিগরদের ঈদ আনন্দ ফিকে

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)   

২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সারা বছরের তুলনায় রমজানে টুপির চাহিদা বেশি থাকে। প্রতি বছর এ সময়ের অপেক্ষায় থাকে টুপি তৈরির কারিগররা। এখানকার টুপি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়। তাতে দামও মেলে আশানুরূপ। টুপি বেচে ঈদের নতুন পোশাক, প্রসাধনী সামগ্রীসহ শৌখিন সামগ্রী কেনে তারা। কিন্তু করোনার থাবায় এবার আর তা হচ্ছে না। দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না টুপি। তাই ফিকে হয়ে যাচ্ছে কারিগরদের ঈদের আনন্দ।

সরেজমিন বগুড়ার ধুনট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ক্রুশ কাটায় টুপি তৈরির নারী কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

এলাকার স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে ঘরের কোনো নারীই বসে নেই। ঘরের কাজ শেষে তারা শুরু করে টুপি তৈরির কাজ। ক্রুশের মাথায় সুতা লাগিয়ে হাতের আঙুলের মারপ্যাঁচে স্বপ্ন বুনোনে কাটিয়ে দেয় প্রতিটি দিন। এভাবে দিনে অন্তত ৮-১০টি বাহারি ডিজাইনের টুপি তৈরি করে। এর মধ্যে রয়েছে বড়ই ফুল, নব্বই ফুল, মাছের কাঁটা, দশফুল, বিস্কুট ফুল, জি, স্টার, কদমফুল, মাকড়সা, ফ্যান ফুল, রাজু বুটা ও আনারস। তবে গাছফুল ডিজাইনের জাল টুপির কদর বেশি।

উপজেলার সব গ্রামেই কম-বেশি বাণিজ্যিকভাবে টুপি তৈরি করা হচ্ছে। এ পেশার সঙ্গে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ যুক্ত আছে। যাদের বেশির ভাগই নারী। তবে প্রতি রমজানে এ সংখ্যা বেড়ে যায়। গ্রামগুলোতে সুতাসহ টুপি তৈরির সব ধরনের উপকরণ পৌঁছে দেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা। টুপি তৈরি শেষ হলে তাঁরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে সুতার দাম বাদ দিয়ে পাইকারি বাজারদর অনুযায়ী সেই টুপিগুলো কিনে নেন।

এসব জালি টুপি দেশের বাজারে চাহিদা মিটিয়ে সৌদি আরব, দুবাই, কাতার, পাকিস্তান, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে বিদেশে টুপি রপ্তানি হচ্ছে না। ফলে টুপির চাহিদা কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে কারিগররা। আর্থিক সংকটে তাদের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।

টুপি তৈরির কারিগররা জানায়, লেখাপড়ার ফাঁকে, গল্প করতে বসে কিংবা সাংসারিক কাজের ফাঁকে টুপি বুনন করা যায়। শিক্ষার্থীরা তাদের লেখাপড়াসহ প্রয়োজনীয় খরচ জোগাতে পারে। একজন গৃহিণী তাঁর অর্জিত আয় দিয়ে সংসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। অন্যান্য কাজের ফাঁকে একজন নারী প্রতি মাসে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা আয় করতে পারেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে।

টুপির পাইকারি ব্যবসায়ী আসাদুল হক বলেন, প্রতি বছর এ সময় গ্রামের নারীদের তৈরি জালি টুপি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু এবার করোনায় লকডাউনের কারণে ঢাকার মোকামে টুপি বিক্রি কিংবা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে না। চাহিদা কমে যাওয়ায় কারিগরদের কাছ থেকে বেশি টুপি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এসব টুপি ঘরেই পড়ে থাকছে।

মন্তব্য