kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

কোটি টাকার বালু লুট

রাজশাহীতে ইজারা ছাড়াই চারটি মহাল থেকে বালু উত্তোলন করছেন আ. লীগ নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বালু উত্তোলন নিয়ে গত বছর রাজশাহী আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ছিল টানটান উত্তেজনা। অবাধে শহররক্ষা বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়ে বাঁধ। এ অবস্থায় চলতি মৌসুমে আর নতুন করে নগরীর মধ্যকার চারটি মহাল ইজারা দেয়নি জেলা প্রশাসন। কিন্তু তাতে কী? রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে ঠিকই গত এক মাস আট দিন ধরে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন। এতে করে মাসে অন্তত পাঁচ কোটি টাকার বালু লুটপাট করে নিচ্ছেন নেতারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু, এক নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলী, একই এলাকার আরেক আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন চারটি বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করছেন। এতে করে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব যেমন হারাচ্ছে, তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে শহররক্ষা বাঁধ।

তবে বালুর কারবারিরা দাবি করেছেন, তাঁদের আগের মেয়াদে উত্তোলন করা বালুই বিক্রি করছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন করে বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন করছেন তাঁরা।

এদিকে লিজ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চারটি বালুমহাল থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করলেও রহস্যজনক কারণে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না জেলা প্রশাসন। ফলে বালুর কারবারিদেরও লাগাম টেনে ধরা যায়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে। অবাধে বালু তোলার কারণে শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে নগরীর সচেতন মহলের মধ্যে।

এর বাইরে চলতি মেয়াদের আগের আট বছরে রাজশাহীর ১১টি বালুমহাল পানির দরে লিজ দিয়ে অন্তত শতকোটি টাকা লোকসান হয়েছে সরকারের। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীর আশেপাশে গড়ে তোলা চারটি বালুমহাল থেকেই অন্তত ৫০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়। তবে গত বছর ১১টি বালুমহাল থেকে সরকার প্রায় ৩৮ কোটি টাকা আয় করতে পেরেছে। কিন্তু অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে শহররক্ষা বাঁধ পড়ে গেছে হুমকির মুখে। এ অবস্থায় বালুমহাল লিজ দিয়ে গত আট বছরে যা রাজস্ব আয় হয়েছে, তার চেয়ে অন্তত ১০ গুণ টাকা ব্যয় হয়েছে শহররক্ষা বাঁধ মেরামত করতে।

এ ব্যাপারে গত বছর বালুমহাল লিজ গ্রহণকারী আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার বালুমহালে গত বছর যে বালু উত্তোলন করা ছিল, সেগুলোই আমরা বিক্রি করছি। নতুন করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছি না।’ একই দাবি করেন আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলী ও আজিজুল আলম বেন্টু।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, ‘শহররক্ষা বাঁধ বাঁচাতে এবার বালুমহাল লিজ দেওয়া হয়নি। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কিভাবে বালুমহালগুলো চলছে, সেটি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।’

মন্তব্য