kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

চাল পাচ্ছে না দরিদ্ররা

মনোহরদীতে তালিকায় অনিয়ম

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাল পাচ্ছে না দরিদ্ররা

নরসিংদীর মনোহরদীতে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় নাম থাকার পরও ১০ টাকা কেজির চাল পাচ্ছে না অনেক হতদরিদ্র। উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নে এমন ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিন ভুক্তভোগী।

জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চালের তালিকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে প্রস্তুত করেছে কাচিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ। ওই তালিকায় নাম থাকার পরও অনেকেই তা জানেন না। সম্প্রতি কয়েকজন হতদরিদ্র ব্যক্তি তাঁদের নাম নামতালিকায় আছে জানার পর ডিলারের কাছে গেলে তাঁদের চাল দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তা ছাড়া এক ব্যক্তির নামে তিন কার্ড, এক গ্রামের ব্যক্তির নাম অন্য গ্রামে দেখানো, তালিকায় নাম থাকলেও গ্রামে এই নামে কারো না থাকা, এমনকি মৃত ব্যক্তির নামও তালিকায় রয়েছে—এমন বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাধুশাল গ্রামের বাসিন্দা আকলিমা বেগম নামের এক নারী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘হতদরিদ্র খাদ্যবান্ধব ১০ টাকা কেজি দরের চালের তালিকার ১০০ নম্বর ক্রমিকে নাম থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে আমাকে চাল দেওয়া হচ্ছে না।’

দাইরাদী গ্রামের খোরশেদ নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ‘তিন বছর ধরে আমার নামে কে বা কারা চাল তুলছে, অথচ আমি জানি না। স্থানীয় মেম্বার জসিম উদ্দিনের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি তালিকায় আমার নাম নেই বলে জানান। পরে দেখা গেল তালিকায় ১৭৭ নম্বরে আমার নাম রয়েছে।’

তালিকায় ১৮৭ নম্বরে থাকা আম্বিয়া বলেন, তাঁর স্বামী লাল মিয়া একজন দিনমজুর। চার সন্তানসহ তাঁদের ছয়জনের সংসার। করোনাভাইরাসের কারণে তাঁর স্বামী কর্মহীন। লোকজনের কাছে সহযোগিতা চাইতে গেলে জানা যায়, ১০ টাকা কেজির চালের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, জসিম মেম্বার চাল তুলে নিচ্ছেন। অথচ তালিকায় নাম ওঠানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে জসিম মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি টালবাহানা করেন। বিষয়টি এক সপ্তাহ আগে জানতে পারেন। তিনি এখনো চাল পাননি।

ওএমএস জিয়াউর রহমান বলেন, ‘তালিকা করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার। আমরা শুধু চাল বিতরণ করি। এর বাইরে আমাদের কিছু জানা নেই।’

তবে কাচিকাটা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জসিম উদ্দিন অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘তিনটি গ্রাম নিয়ে আমার ৭ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে কার্ডের তালিকার সুষম বণ্টন হয়নি। এক নামে একাধিক কার্ড, এক গ্রামের লোকজনকে অন্য গ্রামে দেখানোসহ প্রায় ১৫-২০ জন হতদরিদ্র নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। আগের মেম্বারের সময়ে এই অনিয়মগুলো হয়েছে।’

কাচিকাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন খান কনক বলেন, ‘তালিকাটি তৈরি হয়েছে আগের চেয়ারম্যানের আমলে। তাতে অনেক ভুলত্রুটি রয়ে গেছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ করার পর ইউএনও সাহেব ও খাদ্য অধিদপ্তর মাত্র ১০ শতাংশ সংশোধন করতে রাজি হয়। তাই আমরা নতুন তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা