kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

শ্রমিক সংকটে তানোরে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

৭ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও কালবৈশাখী-বৃষ্টির কারণে রাজশাহীর তানোরে বোরো চাষিরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় ঝড়ে ধান মাটিতে পড়ে গেছে। করোনার জন্য গত বছরের মতো এবার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটা শ্রমিক আসতে পারেনি। একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে শ্রমিক পাওয়া গেলেও মজুরি বেশি। কৃষক কষ্টার্জিত ফসল শেষ মুহৃর্তে যথাযথভাবে ঘরে তুলতে পারবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারদলীয় বিভিন্ন সংগঠনকে কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তানোর উপজেলায় সরকারদলীয় বিভিন্ন সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসনসহ কেউ কৃষকের ধান কাটা নিয়ে সহায়তা করেনি। তানোরের গোল্লাপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে। আমাদের তানোরে কোনো সংগঠন কৃষকদের ধান কেটে বা শ্রমিকের জোগান দিয়ে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেনি। জমিতে পাকা ধান নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।’

এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় এবার ১৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থান থেকে তানোরে ৪০০ শ্রমিককে ধান কাটতে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। শতকরা ৪০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। কোনো সংগঠন কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে কি না আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে তানোর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমরা কৃষকের সন্তান, কৃষকের কষ্টটা বুঝি। বর্তমান পরিস্থিতে করোনাভাইরাসের কারণে রাত-দিন দৌড়ের ওপর রয়েছি। তারপর তানোর থানার দুই স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। ইচ্ছা থাকলেও কৃষকদের ধান কাটার বিষয়ে কোনো সহায়তা করতে পারছি না।’ তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ‘তানোরে ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মী নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। কোনো কৃষক যদি ধান কাটা শ্রমিক না পান আমাকে জানালে আমি স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের পাঠাব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা