kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

বদরগঞ্জে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বয়স্ক মানুষের করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। এ কারণে তাদের সতর্কও বেশি থাকার কথা। তাই সামাজিক দূরত্ব তাদের যথাযথভাবে মানা উচিত। কিন্তু এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে রংপুরের বদরগঞ্জে। গত মঙ্গলবার সকালে সোনালী ব্যাংক খোলার সঙ্গে সঙ্গে বয়স্ক ভাতার জন্য শত শত বৃদ্ধ-নারী-পুরুষ ভিড় করে। সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষা করে তারা একে অন্যের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনেক চেষ্টা করা হলেও কাজ হয়নি।

বয়স্ক ভাতা নিতে আসা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের সর্দারপাড়ার জরিনা বেগম, ইসমাইল হোসেন ও আকবর আলী বলেন, ‘বাহে পেটোত ভাত নাই। জেবন বাঁচোচে না। সকাল থাকি টাকার জন্যে ব্যাংকের সামনোত বসি আছি। করোনার নাম শুনছি। কিন্তু আল্লাহ হামার পাকে আছে। করোনা কিছু করবার পারবে না।’

সোনালী ব্যাংক বদরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক সামিউল হাসান বলেন, ‘বয়স্ক ব্যক্তিদের বেশির ভাগ কানে কম শোনেন। তার ওপর শারীরিকভাবে অনেকেই অসুস্থ। তাঁরা কারো কোনো কথাই মানছেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ইউএনও স্যারকে জানানোর পর আনসার মোতায়েন করা হয়। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। পরে এভাবেই তাঁদের টাকা দেওয়া হয়।’

এদিকে গতকাল বুধবার পৌর শহরের শাহ প্লাজার সামনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে ওএমএসের চাল নিতে শত শত লোকের সমাগম দেখা যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে উপজেলা প্রশাসন চাল বিতরণ বন্ধ করতে বলে। পরে মানুষকে সেখান থেকে সরিয়ে বদরগঞ্জ হাই স্কুল মাঠে নিয়ে চাল দেওয়া হয়।

পৌর শহরের ওএমএস ডিলার শাহ জালাল বলেন, ‘বদরগঞ্জ পৌরসভায় চারজন ডিলার থাকলেও মাত্র একজনকে এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাঁচ কেজি করে চাল শুধু ২০০ মানুষকে বিতরণ করা যায়। অথচ হাজার হাজার মানুষ চালের জন্য ভিড় করে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফুল আলম বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে বোঝানো যাচ্ছে না। মানুষ সচেতন নন। এরপরও আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। অবস্থা ভয়াবহ হলে কয়েক দিন পর আবার এই মানুষকে ঘর থেকে টেনেও বের করা সম্ভব হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা