kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

একটু ত্রাণও জোটেনি অশীতিপর রাহেলার

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একটু ত্রাণও জোটেনি অশীতিপর রাহেলার

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার জামুহালী গ্রামের বৃদ্ধা রাহেলা বেওয়া কোনো ত্রাণই পাননি। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারা দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে মানুষ। এ অবস্থায় সারা দেশের মতো জয়পুরহাটের ক্ষেতলালেও মানুষের খাদ্য চাহিদা নিশ্চিত করতে ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হলেও কোনো ত্রাণই ভাগ্যে জোটেনি জামুহালী গ্রামের বৃদ্ধা রাহেলা বেওয়ার। কেউ খোঁজও নেয়নি তাঁর। অথচ সহায়-সম্বলহীন নিঃসঙ্গ অশীতিপর রাহেলার অযত্ন-অবহেলায় জীবন কাটছে অন্যের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কয়েক হাত জায়গায়।

গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, অশীতিপর বৃদ্ধা রাহেলা বেওয়া দীর্ঘদিন থেকে নিঃসঙ্গ বাস করছেন ল্যাট্রিনের সেপটিক ট্যাংকের ওপর নির্মাণ করা টিনের ঝুপড়িতে। একমাত্র মেয়েসন্তানের বিয়ে দেওয়ার পর সহায়-সম্বলহীন রাহেলার জীবন কাটছে চরম একাকিত্বে। থাকার মতো এক শতক জায়গাও নেই তাঁর। মোশাররফ নামে দূরসম্পর্কের এক ভাই তাঁকে কয়েক হাত জায়গা দিয়েছেন সেপটিক ট্যাংকের ওপর। যার অন্য পাশে গরু লালন-পালন করেন মোশাররফ। স্বামী মাক্কেছ আলী মারা গেছেন অনেক আগে। বিধবা ভাতার বিনিময়ে খাবারের দায়িত্ব নিয়েছেন চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে রেশমা বেগম। তাঁদের তত্ত্বাবধানে জীবন কাটছে জামুহালি গ্রামের ৯৩ বছর বয়সের নিঃসঙ্গ বিধবা রাহেলা বেওয়ার। গ্রামের ইউপি সদস্যের করে দেওয়া বিধবা ভাতাই এখন তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। নিজস্ব জায়গা না থাকায় সরকারি অনুদানে বাড়ি পাওয়ার সুযোগও নেই তাঁর।

রাহেলা বেওয়া বলেন, ‘আমার কেউ নেই বাবা। আমি একা থাকি এখানে। খুব গন্ধ লাগে। পাশেই গরু থাকে। সেখান থেকেও কটু গন্ধ আসে। খুবই কষ্ট। আমাকে কেউ সাহায্য করেনি। আল্লাহ আমার মরণও দেয় না।’

রাহেলার দুর্বিসহ জীবনের কথা শুনে গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই গ্রামে হাজির হন ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমান। রাহেলার খোঁজখবর নিয়ে নিজের বেতন থেকে তাঁর হাতে ৭০০ টাকাও তুলে দেন। পরে তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলাপ করে দুই শতক জায়গা পেলে সরকারি অনুদানে রাহেলার বাড়ি করে দেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা