kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

কুড়িগ্রামে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আসামি ও কারারক্ষীরা

কারাগারে ধারণক্ষমতার চার গুণ বন্দি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আদালত বন্ধ থাকায় কুড়িগ্রাম জেলখানায় বন্দির সংখ্যা বাড়ছেই। প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন বন্দি। কারোরই মুক্তি মিলছে না। জামিনযোগ্য ধারার আসামিদেরও পাঠানো হচ্ছে জেলহাজতে। এ অবস্থায় ধারণক্ষমতার চার গুণের বেশি আসামি কুড়িগ্রাম কারাগারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এমনকি জেলখানায় বন্দিদের মাঝে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ারও শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রাম কারাগারের বিশেষ বিবেচনায় জামিনের লক্ষ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে সাজাপ্রাপ্ত ১১০ জন আসামির মধ্যে তিন ধাপে ৫৭ জনের সাজাভোগের সময় ও মামলার ধরন উল্লেখ করে ঢাকায় তথ্য পাঠানো হয়েছে।

কুড়িগ্রাম কারাগারের জেলার লুৎফর রহমান জানান, কারাগারে আসামির ধারণক্ষমতা ১৬৩ জন। কিন্তু গত মঙ্গলবার জেলখানায় কারাবন্দির সংখ্যা ছিল ৭০৬ জন। একই সঙ্গে জেলে রয়েছে পাঁচ নারী কারাবন্দির দুগ্ধপোষ্য পাঁচটি শিশু। কারাবন্দিদের মধ্যে ৬৭৭ জন পুরুষ এবং ২৯ জন নারী। এর মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ আসামি ১০৭ জন ও নারী তিনজন। বিচারাধীন মামলার পুরুষ আসামি ৫৭০ জন ও নারী আসামি ২৬ জন। প্রতিদিন নতুন আসামি যুক্ত হচ্ছে জেলখানায়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বন্দিরা। করোনার বিস্তার হওয়ার শুরুর দিকে বিচারপ্রার্থীদের ১৫ দিনে এক দিন এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মাসে এক দিন সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হতো। নতুন নির্দেশনায় গত মঙ্গলবার থেকে আসামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে কারাগারের নির্দিষ্ট মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একজন বন্দি সপ্তাহে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট কথা বলার সুযোগ পাবে স্বজনদের সঙ্গে।

জেলার আরো জানান, আদালত খোলা থাকলে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩৫ জন আসামির জামিন হতো। তখন আসামিদের চাপ কমে আসত। এখন নতুন বন্দি আসছে; কিন্তু জামিন মিলছে না। তাদের মধ্যে জামিনযোগ্য ধারার মামলার আসামিও রয়েছে। ফলে কারাবন্দির পাশাপাশি কারাগারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পড়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, কারাগারে বন্দিরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। ওয়ার্ডে ঘুমাতে হয় গাদাগাদি করে। ফলে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছাড়া কম গুরুত্বপূর্ণ ও জামিনযোগ্য ধারার মামলার আসামিদের জামিনের উদ্যোগ নিতে পারে বিচার বিভাগ। সে ক্ষেত্রে ছুটির সময় এক দিন কিংবা একাধিক দিন আদালত বসিয়ে জামিন শুনানি করে তাদের মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাহী আদেশে আসামি মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। বিচারক ইচ্ছা করলে নিজ জিম্মায়ও আসামিদের জামিন দিতে পারেন। এর বাইরে পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারের ব্যাপারে সতর্ক হতে পারে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম আসামিদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে কারাবন্দিদের দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিচার বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা