kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

দুই হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নওগাঁর রাণীনগরে আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজ চলছে। কিন্তু এ কাজ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার হাতিরপুল এলাকায় রতনডারী খালসহ চারটি খালের পানি নিষ্কাশনের প্রায় ১২টি সেতু-কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে বন্ধ করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে যানবাহন চলাচলের জন্য মূল সড়কের পাশে বিকল্প সড়ক করে থেমে থেমে নির্মাণকাজ করার কারণে আতঙ্কে আছে এলাকাবাসী। ফলে যেকোনো সময় ভারি বৃষ্টিপাত হলে রক্তদহ বিলের উঠতি প্রায় দুই হাজার হেক্টর ইরি ও বোরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফসল বাঁচাতে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে খালসহ সেতু-কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ওই বিলের আশপাশের গ্রামবাসী।

জানা যায়, রাণীনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে আবাদপুকুর হয়ে কালীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক নতুন করে পাকা ও প্রশস্ত করাসহ চারটি সেতু ও ২৩টি কালভার্ট ভেঙে নতুন করে নির্মাণকাজের দরপত্র দেওয়া হয়। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০৫ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দরপত্র শেষে সব প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথম পর্বে চারটি সেতু, ছয়টি কালভার্ট ভেঙে আবার নির্মাণকাজ শুরু করেন।

সেতু-কালভার্ট ও সড়ক পাকাকরণ কাজের সময়সীমা প্রাথমিকভাবে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৮ মে থেকে জুলাই পর্যন্ত এ সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। শুষ্ক মৌসুম পার হলেও সেতু-কালভার্টের কাজ করা হয়নি। অথচ এখন রক্তদহ বিল থেকে প্রবাহিত রতনডারী খাল, রক্তদহ খাল, সিম্বা খাল, করজগ্রাম খালের মুখসহ ১২টি সেতু-কালভার্টের মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে পাশে বিকল্প সড়ক করে ধীরগতিতে করা হচ্ছে নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে দু-একটি কালভার্টের কাজ শেষ হলেও কয়েকটি কালভার্ট এখনো ভাঙা হয়নি। আবার যেগুলো ভাঙা হয়েছে সেগুলোর কাজ চলছে খুব ধীরগতিতে। রক্তদহ বিলের চারদিকে রাণীনগর, বগুড়ার আদমদীঘি ও সান্তাহার অংশ মিলে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান আছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতু-কালভার্টের মুখ খুলে না দিলে বৃষ্টিপাতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে।’

জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক জানান, ‘করোনাভাইরাসের কারণে কাজ পিছিয়ে গেল।’ তার পরও সমস্যা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সেতু-কালভার্টের মুখে মাটির নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ দেওয়া আছে। যদি সে রকম অবস্থা দেখা যায় তাহলে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা