kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

নীলফামারী ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল

খালি পড়ে আছে শয্যা

শনাক্তের এক মাস

ভুবন রায় নিখিল, নীলফামারী ও মানিক আকবর, চুয়াডাঙ্গা   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালি পড়ে আছে শয্যা

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে কমেছে রোগীর সংখ্যা। ফলে খালি পড়ে আছে শয্যা। ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে গতকাল ভর্তি ছিল ৯২ জন রোগী। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ১৮০ জন। তাদের মধ্যে হাঁচি-কাশির রোগী ২৩ জন। ভর্তি হওয়া রোগীর মধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী নেই একজনও। এই হাসপাতালে আগে রোগী সামলাতে হিমশিম খেতেন কর্তব্যরতরা। প্রতিদিনই ভর্তি থাকত আসনসংখ্যার অতিরিক্ত রোগী। কিন্তু গতকাল সকালে গিয়ে দেখা গেছে, সুনসান অবস্থা। রোগী কম, এ কারণে অনেক শয্যা খালি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ৬ এপ্রিল ভর্তি ছিল ১১৬ জন রোগী। ৫ এপ্রিল ছিল ১০৪ জন। বহির্বিভাগে ৫ এপ্রিল ২০৮ জন ও ৬ এপ্রিল ২০২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ৫ এপ্রিল ৩১ জন ও ৬ এপ্রিল ৩২ জন হাঁচি-কাশির রোগী ছিল। তবে হাসপাতালের ৬৮ শয্যার করোনা ইউনিটটি শুরু থেকেই খালি পড়ে রয়েছে।

এর আগে হাসপাতালটিতে বহির্বিভাগেও গড়ে চিকিৎসা নিত সাত শতাধিক রোগী। করোনা আতঙ্কের পর কমতে শুরু করেছে রোগীর সংখ্যা।

হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী রায় বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণার কারণে এখন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালে আসছে না কেউ। মারামারি, দুর্ঘটনা এবং জটিল রোগ ছাড়া হাসপাতালে কেউ ভর্তি হচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, এখানে ৬৮ শয্যার করোনা ইউনিট প্রস্তুত আছে। তবে গতকাল পর্যন্ত সেখানে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. রাসেদুজ্জামান বলেন, ‘খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ হাসপাতালে আসছে না। যারা আসে তারা বেশি সময় হাসপাতালে অবস্থান করে না। ছোটখাটো অসুস্থতায় বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছে সবাই। এ কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমেছে।’

এদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেও অন্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে গতকাল রোগীর ভিড় কম দেখা গেছে। স্বাভাবিক সময়ে ২০০-২৫০ জন রোগী এ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হলেও গতকাল সাত ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে মাত্র ২৩ জন। ফলে বেশির ভাগ শয্যাই খালি পড়ে আছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে একজন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিল। ওই সময় অনেক রোগী পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়। তখন থেকে এখনো হাসপাতাল এড়িয়ে চলছে সাধারণ রোগীরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. শামীম কবির বলেন, বর্তমান সময়ে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ৫০-৬০ জন রোগী। মূলত সাধারণ কোনো অসুস্থতার জন্য ফোনে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শের কারণে হাসপাতালে রোগী আসছে কম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা