kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

করোনার ভয় রৌমারী রাজীবপুর সীমান্তে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার ভয় রৌমারী রাজীবপুর সীমান্তে

কুড়িগ্রামে ভারতের আসাম সীমান্ত ঘেঁষা রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকা এক প্রকার অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে ভারত থেকে গরু ও ইয়াবা পাচার কোনোক্রমে থামানো যাচ্ছে না। এর ফলে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ভারতীয়র সংস্পর্শে বাংলাদেশিরা ভাইরাস বহন করে নিয়ে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরেজমিন সীমান্তবাসীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

একাধিক সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নম্বর ১০৫১ থেকে ১০৭১ পর্যন্ত রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার অধীনে। বিশাল এই এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারত থেকে গরু নামাচ্ছে চোরাকারবারি দল। একই সঙ্গে ইয়াবার চালানও ঢোকে বাংলাদেশে। ভারত থেকে নিয়ে আসা গরুগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ রোগাক্রান্ত। ভারতীয়দের হাত থেকে গরু সংগ্রহ করে দেশের চোরাকারবারির দল। সীমান্তের ছাটকরাইবাড়ি, ধর্মপুর, কাউনিয়ারচর, চরের গ্রাম, গয়টাপাড়া, আলগারচর, খেওয়ার চর এলাকাগুলো ভারত থেকে গরু পাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জওয়ানরা টহল জোরদার করে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার পরও চোরাচালান বন্ধ হয়নি।

সীমান্ত গলিয়ে ভারত থেকে যে গরু আনা হচ্ছে তার সত্যতা পাওয়া যায় থানা পুলিশ ও বিজিবির দেওয়া তথ্য মতে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১২ জন গরু পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। ২৩ মার্চ গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের জওয়ানরা গরু পাচারের অপরাধে চরের গ্রামের আইয়ুব আলীকে (২২) গরুসহ আটক করে। একই দিন বড়াইবাড়ি বিজিবির জওয়ানরা ৪৫ পিস ইয়াবাসহ মিজানুর রহমানকে (২৫) আটক করেন। ১৭ মার্চ দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের জওয়ানরা দুটি ভারতীয় গরুসহ নুর ইসলামকে (৪০) আটক করেন। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ইয়াবাসহ শহিদুল ইসলাম (৩৫), সালাম ফকির (৪৯), রমজান আলী (২১) আটক হন বিজিবি জওয়ানদের হাতে। এ ছাড়া থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ আটক হন আব্দুল মালেক ওরফে মাকলু (৫০), সোলায়মান হোসেন (৩০), শফিকুল ইসলাম (২২), রাকিব হাসান (২০), বাবুল আক্তার (৪৫) ও ফুল মিয়া (২০)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধর্মপুর সীমান্ত এলাকার এক স্কুল শিক্ষক জানান, চোরাচালানির সময় ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের সংস্পর্শ ঘটে। এ সময় করোনাভাইরাস আক্রান্ত ভারতীয়র স্পর্শে বাংলাদেশের নাগরিকরা যে আক্রান্ত হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সারা দেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন।

রৌমারী থানার পরিদর্শক হাসান ইনাম জানান, পুলিশের সার্বক্ষণিক টহল চলছে। সীমান্তের মানুষকে বারবার নিষেধ করা হয়েছে।

৩৫ বিজিবি জামালপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আজাদ বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আমরা নানা কর্মসূচি পালন করেছি। তা ছাড়া সীমান্ত এলাকাগুলোতে আমাদের জওয়ানরা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থেকে টহল পরিচালনা করছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা