kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

দুর্দিনেও থামছে না সংঘর্ষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ দিনে নিহত ৩ আহত কয়েক শ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ২৬ মার্চ থেকে গত ১০ দিনে সংঘর্ষে জেলার আশুগঞ্জ, কসবা ও নাসিরনগরে তিনজন খুন হয়েছেন। জেলা সদর, সরাইল ও বিজয়নগরে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েক শ লোক আহত হয়েছে।

এদিকে গত রবিবার এক দিনেই জেলার সরাইল উপজেলার টিঘর, বড়ইছড়া, বিটঘর, নোয়াগাঁও, ধরন্তী, সৈয়দটুলা (দুটি ঘটনা) এলাকায় সাতটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বড়ইছড়ায় অর্ধশতসহ শতাধিক লোক আহত হয়।

এক বাড়ির হাঁস আরেক বাড়িতে যাওয়া, ক্রিকেট খেলা, জমিতে মাটি কাটা, বাগবিতণ্ডাসহ তুচ্ছ সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায়ই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে নাসিরনগরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন উপজেলার কদমতলী গ্রামের সোলেমান মিয়ার ছেলে মোস্তফা কামাল (৬০)। কসবায় শনিবার সকালে খুন হন উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের তানভীর (২২)। পূর্ববিরোধ ও মাটি কাটা নিয়ে ঝগড়ার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় তানভীর খুন হন বলে পরিবারের লোকেরা অভিযোগ করেছে। এদিকে রবিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইছড়া গ্রামে রবিবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছে।

অপর দিকে গত ২৭ মার্চ আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের মুন্সী মার্কেটের সামনে প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীর আলম (৫১) নামের এক ব্যক্তি প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। নিহত জাহাঙ্গীর উপজেলার চরচারতলা গ্রামের ইলু মিয়ার ছেলে। জানা গেছে, মুন্সী মার্কেটের পাশে একটি পোড়া গুদামে নিয়মিত জুয়ার আসর চলে। এর নেপথ্যে ছিলেন জাহাঙ্গীরের ব্যবসায়িক অংশীদার শফিকুল ইসলাম আবু ওরফে ছোট আবু। এরই সুবাদে জাহাঙ্গীরও সেখানে যেতেন। শুক্রবার একদল দুর্বৃত্ত ওই পোড়া গুদামে ঢুকে জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রবিবার রাতে সরাইলের পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইছড়া গ্রামে সংঘর্ষের বিষয়ে জানা গেছে, পরমানন্দপুর গ্রামের শাহীন নামে এক যুবক বড়ইছড়া গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গান গাইতেছিলেন। এ সময় পরমানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা শহর আলী গান গাইতে নিষেধ করলে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ড হয়। বিষয়টি শাহীন জানালে তাঁর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বড়ইছড়া গ্রামে আক্রমণ চালায়। এ অবস্থায় বড়ইছড়া গ্রামের লোকজনও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বড়ইছড়া গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হয়। একই দিন বিকেলে মার্বেল খেলা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর এলাকার দক্ষিণ পাড়ায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। সংঘর্ষে মুজাহিদ নামের এক যুবকের ডান চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া গত ৩১ মার্চ সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের ভুঁইশ্বর গ্রামে দুদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ২৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়তে হয়।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন টিটু হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘এক দিনে যদি সাতটি সংঘর্ষের ঘটনা থামাতে হয়, তাহলে কিভাবে কী করব? করোনা পরিস্থিতি এবং অন্যান্য পরিস্থিতিও পুলিশকে সামাল দিতে হচ্ছে। জানি না পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে!’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘এসব সংঘর্ষের কারণে এলাকায় করোনা পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। আমার মনে হয়, সবার মধ্যে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন না ঘটাতে পারলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা