kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

জয়পুরহাট

দিনমজুরের দিন কাটে না

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিদিন কাজের সন্ধানে ওরা বসে থাকে জয়পুরহাট শহরের বাটার মোড়ে। করোনার ভয়াবহতা প্রভাব ফেলেনি ওদের প্রয়োজনীয়তার কাছে। প্রতিদিন দিনমজুরের কাজ পেলে ওদের আহার জোটে, কাজ না  পেলে দিন কাটে অনাহার-অর্ধাহারে।

করোনাভাইরাস থেকে সতর্ক থাকার জন্য শহরে প্রতিদিন মাইকিং, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়লেও তাদের অভিযোগ, ‘কাজ না করলে আমরা খাব কি? তাই বেঁচে থাকার তাগিদেই ঘর থেকে বের হতে আমরা বাধ্য হই। আমরা কাজ না করলে পরিবার না খেয়ে থাকে। কোনো সাহায্যও মেলেনি যে দুই দিন ঘরে বসে খাব।’

করোনার ভয়াবহ অবস্থায় প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেও শহরে আগমনের কথা জানতে চাইলে গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় বাটার মোড়ে অপেক্ষারত শ্রমিকরা এসব কথা বলে। তারা জানায়, করোনার জন্যই এখন কাজ মিলছে না। এরপরও আসতে হয় কাজের সন্ধানে। এ অবস্থায় কোনো দিন কাজ মিলছে। কোনো দিন মিলছে না। শ্রমিকদের মধ্যে যারা রাজমিস্ত্রি তাদের মজুরি ৫০০ আর যারা দিনমজুর তারা পায় ৩০০ টাকা। এই দিয়ে দিন চলে তাদের। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মানুষের চলাফেরায় সরকারি বিধি-নিষেধ আরোপের পর থেকে অন্যান্য কাজ-কর্মের সঙ্গে ভাটা পড়েছে বিভিন্ন নির্মাণকাজে। এরপরও প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ভিড় জমায় কাজের জন্য। এ জন্য মাঝেমধ্যেই পুলিশের তাড়া খায় ওরা।

জয়পুরহাট পৌরসভার বাগিচাপাড়া মহল্লার ষাটোর্ধ্ব বয়সের শ্রমিক ওমর আলী জানান, পরিবারের ছয় সদস্যের মধ্যে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই সংসার চলে তাঁর। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিদিন আসতে হয় কাজের সন্ধানে। তিনি বলেন, ‘কাজ না করলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতাও পাওয়া যায়নি।’

পাঁচুর চক মণ্ডলপাড়া থেকে আসা রাজমিস্ত্রি আজাদ রহমান বলেন, ‘শুনছি ত্রাণ দেওয়া হবে। কিন্তু আমরাতো পাচ্ছি না।’

জয়পুরহাটের ধলাহার ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রাম থেকে আসা নারী শ্রমিক কুলসুম বেওয়া বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর শ্রমিকের কাজ করে সন্তানদের নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি। এখন সব দিন কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। কাজ না পেলে চলব কী করে? চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ত্রাণ দিচ্ছেন তাঁদের পছন্দের মানুষদের। তাঁদের তালিকায়

আমার নাম নেই।’ একই অভিযোগ কাজের সন্ধানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অন্তত ২০ জন শ্রমিকের।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায় জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সচেতনতার পাশাপাশি মানুষের খাদ্য সহযোগিতা কার্যক্রম চলমান। তাঁরা চেষ্টা করছেন এই দুর্যোগের মধ্যে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে খাদ্য সহযোগিতা দেওয়ার। তিনি দেশের এই বিপদের মুহূর্তে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা