kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

পঞ্চগড়

সংকটে তাঁত শ্রমিকরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে গেছে পঞ্চগড়ের তাঁত কারখানাগুলো। তাতে বিপাকে পড়েছেন তাঁতনির্ভর পাঁচ শতাধিক শ্রমিক। লোকসানে পড়েছেন কারখানা মালিকরাও। কাজ না থাকায় টানাপড়েনের সংসারে অর্ধাহারে-অনাহারে কাটছে শ্রমিকদের দিন। এখন পর্যন্ত সরকারি ত্রাণ সহায়তাও পাননি তাঁরা। দিন দিন তাঁদের কষ্টের পাল্লা ভারী হচ্ছে।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের মোটা সন্ন্যাসী এলাকায় গত কয়েক বছরে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় তিন শতাধিক তাঁত কারখানা। ভালো মুনাফা হওয়ায় ওই এলাকায় কারখানা বাড়তে থাকে। শাড়ি, ওড়না ও থ্রিপিস তৈরি হতো এই তাঁতপল্লীতে। দিন-রাত পরিশ্রম করে শ্রমিকরা জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে থমকে গেছে তাঁদের জীবনযাত্রা। সরব তাঁতপল্লীতে নেমে এসেছে নীরবতা।

গত ২৫ মার্চ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাতে দুর্ভোগে পড়েন সাপ্তাহিক মজুরিনির্ভর তাঁত শ্রমিকরা। একদিকে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না, আরেক দিকে ঘরে নেই খাবারের জোগান। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সংকটে পড়ে গেছেন তাঁরা। এখনো তাঁদের ঘরে সরকারি কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি। দিন দিন তাঁদের সংকট বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা করা তাঁত কারখানা মালিকরাও পড়েছেন লোকসানে। চুক্তি করা মালামালও কিনছেন না ঢাকার বড় ক্রেতারা। এই অবস্থা দীর্ঘতর হলে তাঁতশিল্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তাঁত শ্রমিক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই তাঁতের ওপর নির্ভরশীল। এখন তাঁত বন্ধ, ভাতও বন্ধ। ঘরের খাবার ফুরিয়ে গেছে। ধারদেনা করে কয়েক দিন চলেছি। এখন আর কোনো উপায় নেই। সরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতাও পাচ্ছি না।’

আরেক শ্রমিক নেপাল চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকার আমাদের ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। তাহলে আমরা কী করে খাব? যত দিন ঘরে থাকতে হয় আমরা থাকতে রাজি আছি। তার আগে আমাদের খাবার ব্যবস্থা করেন।’

তাঁত শ্রমিক লাভলী আক্তার বলেন, ‘কারখানায় কাজ করেই আমাদের সংসার চলে। কাজ করে প্রতি সপ্তাহে তিন-চার হাজার টাকা পাই। সেই টাকায় সংসার আর ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাই। কিন্তু হঠাৎ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা বাড়ি থেকেও বের হতে পারছি না। এই সময়ে অন্য কাজও করতে পারছি না। ঘরে খাবার নেই। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে পড়ে গেছি।’

টাচ ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে আমরা কারখানা মালিকরা বিপদে পড়ে গেছি। আমাদের অনেক অর্ডার আটকে গেছে। বকেয়া টাকা তুলতে পারছি না। সেই সঙ্গে ঋণের চিন্তা তো আছেই। এই বৈশাখের বাজার ধরতে না পারলে আমার অন্তত আট লাখ টাকার ক্ষতি হবে। তা ছাড়া আমাদের শ্রমিকরা খুব কষ্টে পড়ে গেছে। কাজ না থাকায় তারা অসহায় হয়ে পড়েছে। এখন তাদের যে সহযোগিতা করব, সেই সামর্থ্যও আমার নেই।’

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি নিম্ন আয় ও শ্রমজীবীর বাড়ি বাড়ি সরকারি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে চাল, ডাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ পাওয়া মাত্রই তা বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এখনো যারা ত্রাণ পায়নি তাদের জেলা প্রশাসনের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা