kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

কুড়িগ্রাম

চার হাসপাতাল ঘুরেও মেলেনি চিকিৎসা, প্রসূতির মৃত্যু

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার হাসপাতাল ঘুরেও মেলেনি চিকিৎসা, প্রসূতির মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রসববেদনা নিয়ে একে একে চারটি হাসপাতাল ঘুরেও সুচিকিৎসা না পাওয়ায় সুজিনা বেগম (২৮) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত সুজিনা বেগম উলিপুরের মিয়াজীপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যানচালক শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।

পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় ভ্যানচালক শফিকুল ইসলামের স্ত্রী সুজিনা বেগমের প্রসববেদনা শুরু হয়। রাতেই শফিকুল তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এর আড়াই ঘণ্টা পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার না থাকার কথা জানিয়ে রাতেই তাঁকে স্থানীয় আখরুন্নাহার মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ৫০০ টাকার বিনিময়ে সুজিনাকে ভর্তি করানো হয়। এরপর সিজারের কথা বলে একগাদা ওষুধ কিনে নেওয়া হয়। কিন্তু পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা বেজে গেলেও ডাক্তার আসেনি। এ সময় রোগীর অবস্থার চরম অবনতি হলে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালের লোকজন অ্যামু্বল্যান্স ভাড়া করে প্রসূতিকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠায়। এরপর সেখানকার একটি চক্র স্বজনদের বুঝিয়ে পাশের গ্রিন লাইফ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দুই হাজার ৩৫০ টাকা দিয়ে ভর্তি করে সিজারের কথা বলে একগাদা ওষুধ কিনে নেওয়া হয়। পরে ডাক্তার না থাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখান থেকে আবার প্রসূতিকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর সুজিনাকে ইঞ্জেকশন পুশ করা হলে কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার রাতেই স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে।

সুজিনার খালা আমিনা বেগম বলেন, ‘ওরা এ হাসপাতাল থেকে ও হাসপাতালে পাঠানোর কারণেই সুজিনার মৃত্যু হয়েছে। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’

উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমনটা হওয়ার কথা নয়।’

এ বিষয়ে আখতারুন্নাহার মেমোরিয়াল হাসপাতালের পরিচালক ডা. ঈরশাদুল হক চাঁদ বলেন, ‘রাতে রোগী ভর্তি হলে সকালের দিকে প্রেসার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে খিঁচুনি শুরু হয়। এ অবস্থায় আমাদের এখানে সিজার করা সম্ভব ছিল না। পরে দুপুরে গাড়ি ভাড়া করে তাঁকে কুড়িগ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. রেদওয়ান ফেরদৌস বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা