kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

দিনাজপুর

করোনা দুর্যোগেও পাশে নেই নেতারা

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতিতে দিনাজপুরে জনগণের পাশে ছয় সংসদ সদস্যের (এমপি) মধ্যে মাত্র দুজনকে দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে যেসব নেতারা বিভিন্ন দল থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁদের বেশির ভাগকেই মাঠে দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) করোনাসংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করছেন। অথচ দুর্যোগের এই সময় স্থানীয় এমপিদের উপস্থিতি ও পরামর্শ স্থানীয় প্রশাসনের জন্য খুবই সহায়ক হয়ে উঠতে পারত।  

প্রসঙ্গত, ওই ছয় এমপিই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত। 

গত জাতীয় নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনে মোট ৫৯ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে বাছাইয়ে ১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নির্বাচন কমিশনে একজন ও উচ্চ আদালতের আদেশে একজন মনোনয়নপত্র ফিরে পান। বাতিল হয় ৯টি। আর প্রত্যাহার করেন ১৮ জন। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে মাঠে ছিলেন ৩৪ জন। তাঁদের মধ্যে যে ছয়জন নির্বাচিত হন তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ মানুষকে ঘরবন্দি রাখতে ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সাধারণ মানুষকে বাড়িতে রাখতে এমপি ও জনপ্রতিনিধিদের সরকারিভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৮ মার্চ কর্মহীন মানুষকে সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এমপিদেরও সহযোগিতার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু জেলায় মাত্র দুজন এমপিকে মাঠে দেখা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে মাঠে আছেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল ও দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ-বিরামপুর-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর) আসনের এমপি শিবলী সাদিক। এই দুই এমপি বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। দিন-রাত এক করে তাঁরা জনগণের পাশে আছেন।

দিনাজপুর-১ আসনের এমপি মনোরঞ্জন শীল সম্প্রতি তাঁর দুই পায়ে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। এ অবস্থায়ই তিনি জনগণের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন। গতকাল শনিবার পর্যন্ত তিনি ছয় হাজার বাড়িতে নিজ হাতে ত্রাণ হিসেবে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি শিবলী ৪০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিদিন নিজ হাতে ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছেন তিনি।

দিনাজপুর-২ (বোচাগঞ্জ-বিরল) আসনের এমপি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গত ১২ মার্চ তাঁর নির্বাচনী এলাকায় এসেছিলেন। ঢাকা থেকে মাঠ পর্যায়ে আদেশ-নির্দেশ দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। গতকাল নিজ তহবিল থেকে তাঁর সংসদীয় এলাকায় দুই হাজার বোতল সয়াবিন তেল দিয়েছেন। তাঁর পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু কবে নাগাদ এলাকায় আসবেন তা কেউ জানাতে পারেননি।

দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি হুইপ ইকবালুর রহিমও এলাকায় নেই। গতকাল সকালে তিনি ঢাকা থেকে সড়কপথে দিনাজপুরের দিকে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনের এমপি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে ঢাকায় চলে যান। এরপর আর এলাকায় আসেননি তিনি। এখন পর্যন্ত তাঁর পক্ষে বা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে করোনা মোকাবেলায় কোনো পদক্ষেপ নিতে শোনা যায়নি।

দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনের এমপি সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার গত ১০ মার্চ নির্বাচনী এলাকায় এসে ১৪ মার্চ ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পার্বতীপুরে তিন লাখ ও ফুলবাড়ীতে দুই লাখ টাকার ত্রাণসামগ্রী বিতরণের নির্দেশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন তিনি।

এ ছাড়া দিনাজপুর-১ আসন থেকে বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনজুরুল ইসলাম মনজু, দিনাজপুর-২ আসন থেকে বোচাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক এমপি আকতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, দিনাজপুর-৬ আসনে জামায়াত নেতা মো. আনোয়ারুল ইসলাম নির্বাচন করেছিলেন।

তাঁদের মধ্যে রেজওয়ানুল হক, মনজুরুল ইসলাম, সাদিক রিয়াজ, জাহাঙ্গীর আলম ও আকতারুজ্জামান মিয়াকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা