kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

ইউপি চেয়ারম্যানরা ফোনই ধরেন না

ময়মনসিংহে লোকজন সামাজিক দূরত্ব মানছে না। প্রবাসীদের তালিকা নিয়ে আছে ধূম্রজাল। হাট-বাজারগুলোও খোলা থাকছে। কিন্তু এসব বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা নেই অনেক ইউপি চেয়ারম্যানের

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউপি চেয়ারম্যানরা ফোনই ধরেন না

‘গরিবের বন্ধু’, ‘নিঃস্বার্থ সমাজসেবক’, ‘জনদরদী’ হিসেবে ভোট চেয়ে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে বর্তমানে করোনা সংকটে সেই ‘জনদরদী’দের অনেকে ফোন ধরেন না। কারো কারো ফোন বন্ধ। অনেকে নিজ এলাকা ছেড়ে বাস করেন ময়মনসিংহ শহরে। কেউ কেউ ঘুম থেকে ওঠেন সকাল ১০টা-১১টার দিকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে করোনা সংকটে সবচেয়ে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে গ্রামে। লোকজন সামাজিক দূরত্ব মানছে না। প্রবাসীদের তালিকা নিয়ে আছে ধূম্রজাল। হাট-বাজারগুলো খোলা থাকছে। চলছে যেখানে সেখানে আড্ডা। বিয়ে থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানাদিও হচ্ছে অনেক স্থানে। কিন্তু এসব বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা নেই অনেক ইউপি চেয়ারম্যানের। এমনকি অনেক চেয়ারম্যানই সচেতন কি না—এ প্রশ্নও আছে।

বর্তমানে জেলা শহর এবং বিভিন্ন উপজেলা সদরে ত্রাণকাজ কমবেশি চললেও দুশ্চিন্তা হলো প্রত্যন্ত গ্রামের গরিব পরিবারগুলোর কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া নিয়ে। তাদের খোঁজখবর রাখা। অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র লোকজনও তাদের নিজের এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সন্ধান করছেন সাহায্য-সহযোগিতার আশায়। কিন্তু অনেক চেয়ারম্যানের করোনা সংকটে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলার বিভিন্ন এলাকার সচেতন ভোটাররা বলেন, অনেক চেয়ারম্যানই ধনী। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সময়ে তাদের কোটি টাকা খরচের গুঞ্জন ছিল। অনেকে বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে নির্বাচন করেছেন। ভোটের আগে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেছেন। কিন্তু সেই তুলনায় এই দুঃসময়ে তাঁদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই।

অনেক ভোটার বলেন, জেলার বেশ কিছু ইউনিয়নে এমন কয়েকজন চেয়ারম্যান আছেন যাদের দেখা পাওয়াও কঠিন। এরা ফোন ধরেন না। ফোন ধরলেও শুধু প্রশাসন বা পরিচিত লোকজনের ফোন ধরেন। আবার অনেকের ফোন সকাল ১১টা-১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। কেউ কেউ বিলম্বে ঘুম থেকে ওঠেন। কেউ অন্যকে নিয়ে ফোন ধরান। অনেক চেয়ারম্যান তাদের অবস্থান জানাতে চান না। এমনকি কেউ কেউ সাহায্য-সহযোগিতার ক্ষেত্রে পরিচিতজনদের প্রাধান্য দেন।

অনেক ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভালো, সৎ এবং সক্রিয় ব্যক্তিরা স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হলে দুঃসময়ে এলাকাবাসী সুফল পায়। কিন্তু এখন অনেকে নির্বাচিত হন দলীয় পরিচয়ে। দলীয় মনোনয়ন নিয়েও নানা কথা শোনা যায়। ভোটাররাও দলীয় বিবেচনায় ভোট দেন। এতে আড়ালে থেকে যায় ভালো মানুষগুলো। যার কারণে দুঃসময়ে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সেভাবে পাশে পান না ভোটাররা। অথচ যেকোনো বিপদে সবার আগে পাশে থাকার কথা তাঁদের। এ জন্য তাঁরা এলাকাবাসীর কাছে ওয়াদাবদ্ধ।’

চেয়ারম্যানদের পাওয়া যায় না, এ অভিযোগের সত্যতা জানতে গতকাল শনিবার এ প্রতিবেদক ১০ জন ইউপি চেয়ারম্যানকে ফোন দেন। এর মাঝে দুজন ফোন ধরেননি। দুজনের ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। ফোন বন্ধ পাওয়া যায় ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের এবং হালুয়াঘাট উপজেলার স্বদেশি ইউপির জিহাদ সিদ্দিকী ইরাদের। রিং হলেও ফোন ধরেননি নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউপির এমদাদুল হক ভুঁইয়া এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউপির আলমগীর হোসেন।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সম্পাদক ইয়াজদানী কোরায়শী বলেন, ‘বর্তমান সংকটটি আমাদের জন্য একেবারে নতুন। সংকট সমাধানে নানাজন নানাভাবে ভূমিকা রাখছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাঝে ইউপি চেয়ারম্যানরা সবচেয়ে বেশি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। এ বিপদে তাঁদের অনেকে যথাযথ ভূমিকা রাখছেন না, যা উদ্বিগ্ন করেছে আমাদের।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা