kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

বগুড়া

করোনায় মাঠে নেই সংসদ সদস্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থাকার কথা থাকলেও বগুড়ার সংসদ সদস্যদের মাঠে দেখা যাচ্ছে না। কোনো কাজেই তাঁদের পাচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। কর্মহীন মানুষদের সরকারি খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে বলা হলেও সেখানেও উপস্থিতি নেই তাঁদের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা একাই এসব বিষয় দেখভাল করছেন। অথচ দুর্যোগের এই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি ও পরামর্শ স্থানীয় প্রশাসনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

জানা গেছে, বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনটি শূন্য রয়েছে।

ছয়জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন, বিএনপির দুজন, জাতীয় পার্টির দুজন এবং স্বতন্ত্র একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং মানুষকে ঘরবন্দি রাখতে ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে ঘরবন্দি রাখতে এমপি-জনপ্রতিনিধিদের সরকারিভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৮ মার্চ কর্মহীন মানুষদের সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের সহযোগিতার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বগুড়ায় কোনো সংসদ সদস্যকেই এই কাজে দেখা যাচ্ছে না।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে মাসখানেক ধরে এলাকায় দেখা যায়নি। করোনার ভয়ে তিনি নিজেই ঘরবন্দি হয়ে আছেন। তাঁর ছেলে শরীফ হুসাইন সঞ্চয় দুই-তিন দিন আগে কিছু এলাকায় গিয়ে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন।

বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির নেতা নূরুল ইসলাম তালুকদারও এলাকায় নেই। তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। জরুরি ছাড়া ফোন ধরাও বন্ধ রেখেছেন তিনি।

বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন করোনা মোকাবেলায় নিজের এক মাসের সম্মানী ভাতাসহ আড়াই লাখ টাকার মাস্ক, সাবান ও করোনা সুরক্ষা পোশাক কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন ফেসবুকে। এই অর্থ থেকে তাঁর সহকারীদের মাধ্যমে দুটি উপজেলার (কাহালু-নন্দীগ্রাম) নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে ৫০ হাজার করে এক লাখ টাকা হস্তান্তরসহ মাস্ক, সাবান বিতরণ করেন। তবে তিনি নিজে এখনো এলাকায় আসেননি।

বগুড়া-৫ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান করোনা ছড়ানোর শুরু থেকেই নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। গত মঙ্গলবার তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা শেরপুর-ধুনটে খাদ্য বিতরণ করেছেন। এরপর আর কোনো কর্মকাণ্ডে তাঁকে দেখা যায়নি। তবে হাবিবর রহমান বলেন, তিনি সব কিছু ঠিকঠাক করে মাঠে নেমেছেন।

বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এখন পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় আসেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে জেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে। তবে তিনি নিজ উদ্যোগে পাঁচ হাজার হতদরিদ্রকে খাদ্য সহায়তা দেবেন বলে জানা গেছে। যা ৭ এপ্রিল থেকে শুরু করার কথা রয়েছে।

তা ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান শহীদ গোলাম রব্বানী ফাউন্ডেশন এবং এস আর গ্রুপের অর্থায়নে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য আলাদা করে পাঁচ শ পিপিই এবং পাঁচ শ টেস্টিং কিট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ সবই এখন পর্যন্ত ঘোষণার মধ্যে রয়েছে।

এদিকে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু করোনা দুর্যোগে নির্দেশনা মেনে এলাকাবাসীর পাশে থাকেননি। এমনকি তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও সমন্বয় করছেন না। উল্টো এই দুর্যোগের সময় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, রাস্তার জায়গা দখল করে ‘এমপি ক্লাব’ নামে একটি সংগঠনের স্থাপনা নির্মাণে সহযোগিতা করার। এই কাজে বাধা দিলে বাবু নামে এক যুবলীগ নেতাকে মারধর করা হয়।

সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু অবশ্য জানান, যারা ‘এমপি ক্লাব’ নির্মাণকাজে বাধা দিয়েছে, তারা সেখানকার একটি হাসপাতালের গেটে রোগীদের ডিস্টার্ব করে এবং রাতে হাসপাতালের ভেতর জুয়া খেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা