kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

‘মুই কী খায়া বাঁচিম ভাই?’

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘মুই কী খায়া বাঁচিম ভাই?’

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে গতকাল খাবারের সন্ধানে এসেছিলেন ষাটোর্ধ্ব ছকিনা বেওয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

ষাটোর্ধ্ব বয়সের ছকিনা বেওয়া। বয়সের ভারে লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন। দুনিয়ায় আপন বলতে এখন কেউ নেই। স্বামীকে হারিয়েছেন বহু বছর আগে। তাঁর একটামাত্র ছেলে ছিল। তাঁকেও হারিয়েছেন। ছেলেকে হারানোর পর আরো অসহায় হয়ে পড়েন ছকিনা। ছেলে মারা যাওয়ার পর একমাত্র নাতিকে আঁকড়ে বেঁচে আছেন তিনি। তবে ছেলের মৃত্যুর পর তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। বাঁচার তাগিদে প্রতিদিন ভিক্ষার ঝুলি হাতে বেরিয়ে পড়েন। ভিক্ষাবৃত্তির রোজগারেই তিনবেলা পেটের খিদে নিবারণ করতে হয় ছকিনাকে। এখন সেই ভিক্ষাবৃত্তিও থামিয়ে দিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস। এলাকার সব দোকানপাট ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। কার কাছে হাত পাতবেন, তাও জানা নেই। কারো কাছে গিয়ে সাহায্য চাইতেও পারছেন না তিনি। গেলেও এ বৃদ্ধাকে সাহায্য না করে ফিরিয়ে দেয় অনেকেই। তাই অনাহারে-অর্ধাহারে কেটে যাচ্ছে তাঁর দিন। তিনবেলা খাবারের সন্ধানে বেরিয়েও আবারও ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁকে।

গতকাল বুধবার সকালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে খাদ্য জোগাড়ে বেরিয়ে পড়া এ বৃদ্ধার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। স্টেশনে লোকজন না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছেন তিনি। কারো কাছে সাহায্য না পেয়ে ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে তাঁর এমন দুর্বিষহ অবস্থার বর্ণনা দেন। অর্ধাহার-অনাহারে দিনাতিপাত করলেও কেউ স্বেচ্ছায় বাড়িয়ে দেয়নি সাহায্যের হাত। এই বৃদ্ধার বাড়ি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগীরি (সোনারপাড়া) গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত ছাত্তার মিয়ার স্ত্রী।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রানু মিয়া বলেন, ‘সরকারের চলমান ত্রাণ কার্যক্রমে ওই বৃদ্ধার নাম দিয়েছি। তবে আমিও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা