kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

উলিপুরে ত্রাণ অপ্রতুল

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উলিপুরে ত্রাণ অপ্রতুল

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ত্রাণের অপেক্ষায় বসে আছেন কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আতঙ্কে জনজীবন স্থবির হয়ে গেছে। সরকারের দেওয়া অঘোষিত লকডাউন চলছে। হাতে কাজ নেই, ঘরে খাবার নেই। এ অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে উপজেলার হাজার হাজার নিম্ন আয়ের মানুষ। সরকার এসব কর্মহীন মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু কর্মহীন দরিদ্ররা এ সহায়তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া যে পরিমাণ ত্রাণ বরাদ্দ, সেটিও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর সূত্র জানায়, আপৎকালীন প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় তিন হাজার ৭০০ শ্রমজীবী মানুষের বিপরীতে ৩৭ টন জিআরের চাল ও এক লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তবে কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় বরাদ্দ অপ্রতুল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় গত ২৬ মার্চ থেকে এ উপজেলার সব হাট-বাজার, দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সর্বসাধারণকে অযথা বাইরে ঘোরাঘুরি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের অঘোষিত লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়ে ভিক্ষুক, ভবঘুরে, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, দিনমজুরসহ বিভিন্ন নিম্ন আয়ের মানুষ।

এ উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। দিন এনে দিন খাওয়া লোকের হিসেব নেই। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে করোনাভাইরাস রোধ ও চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মানতে গিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ে এসব মানুষ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নিম্ন আয়ের মানুষজন কর্মহীন থাকায় গচ্ছিত অর্থ খরচ করে চরম হতাশায় ভুগছে। কিন্তু এখনো বেশির ভাগ ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। সরেজমিনে বুধবার উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।

হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, ‘২০০ লোকের বিপরীতে ইউনিয়ন প্রতি দুই টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। এ ইউনিয়নে দিন এনে দিন খাওয়া লোকের সংখ্যা অনেক। তবুও অনেক যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করে বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজউদ্দৌলা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৩৭ টন চাল ও এক লাখ ৮০ টাকার বরাদ্দ পেয়েছি। বরাদ্দ পাওয়ার পর পরই সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের মধ্যে তা বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তী বরাদ্দ পেলে বাদ পড়া কর্মহীনদের ত্রাণের আওতায় আনা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা