kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

ত্রাণ গুদামে, খাদ্য সংকটে মানুষ

চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় পীরগাছা উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাভাইরাসে সংক্রমণ রোধে চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় রংপুরের পীরগাছায় দুস্থদের জন্য ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিতরণ করা হয়নি। প্রথম পর্যায়ে জেলা প্রশাসন ১০০ পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন বিতরণের জন্য তালিকা তৈরি নিয়েই ব্যস্ত রয়েছে। ফলে ত্রাণ না পেয়ে নিম্ন আয়ের কর্মহীন মানুষগুলোর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এদিকে চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় লোকজন।

রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্য সহায়তার প্রতি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু ও দুই কেজি মসুর ডাল দেওয়া হচ্ছে। গত শনিবার জেলার আট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পীরগাছা উপজেলায় পরিবারপ্রতি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পাঁচ কেজি চাল। ১০০ পরিবারের জন্য বরাদ্দ ৫০০ কেজি। কোনো নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে জেলার বাকি সাত উপজেলায় পরিবারপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশনা মানতে গিয়ে ঘরবন্দি নিম্ন আয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রিকশা ও ভ্যানচালক, দিনমজুর ও হোটেল শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষ বিপাকে রয়েছে। অনেকে খাদ্য সংকটের পড়েছে। সরকার তাদের খাদ্য দেওয়ার জন্য সহায়তার ঘোষণা দেয়। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে দুস্থ মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চলমান পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসন বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য পৌঁছে দিয়ে আসছে। কিন্তু করোনাভাইরাস রোধে পীরগাছা উপজেলা প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। জেলা প্রশাসন ত্রাণ বরাদ্দ দিলেও তালিকা তৈরিতে ব্যস্ত উপজেলা প্রশাসন। এর আগে বিদেশফেরতদের তালিকা গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্যদের হাতে তুলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা হয়। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বাধ্য করার কোনো উদ্যোগ ছিল না। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হাট-বাজার ও দোকানপাট বন্ধের ক্ষেত্রেও ছিল না কোনো পদক্ষেপ। তবে সেনা মোতায়েনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবরের পর উপজেলাজুড়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্কসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এসব বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কোনো নজরদারি করেনি। বাজারে সব পণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকলেও দাম আকাশ ছোঁয়া। বর্তমানে চালের বাজার লাগামহীন। ফলে তা দিন দিন নিম্ন আয়ের কর্মহীন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। মানভেদে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১২-১৫ টাকা। এমন পরিস্থিতিতেও বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।

উপজেলার কান্দির বাজারের হোটেল শ্রমিক আফছার আলী বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ। হোটেলে কাম করি খাই। এখন হোটেল বন্ধ, কামও বন্ধ। বাড়িতে খাবার নাই। কেউ কিছু দেয়ও না।’

বাড়িতে খাবার নেই। তাই বাধ্য হয়ে নিষেধ সত্ত্বেও ভ্যান নিয়ে বেরিয়েছেন উপজেলার অনন্তরাম উচাপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক শামছুল হক। তিনি বলেন, ‘তিন দিন থাকি কোনো ভাড়া নাই। সকালে না খায়া বাড়ি থাকি বাইর হইছি। দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনো ভাড়া হয় নাই।’

চৌধুরাণী বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবরের পর বাজারে প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। ২৮ টাকা কেজির চাল ৪৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবুও উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি নেই। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়েই চলছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের বরাদ্দ করা ত্রাণ এখনো বিতরণ শুরু হয়নি। বিতরণের জন্য তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা তৈরি শেষে বিতরণ করা হবে। তবে উপজেলায় কিছু ভাসমান দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন প্রধানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা