kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

পীরগঞ্জে বালু উত্তোলন চলছেই

রংপুর অফিস   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরের পীরগঞ্জে করতোয়া নদী ঘেঁষা টুকুরিয়া, বড়আলমপুর, চতরা ও কাবিলপুর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের অর্ধশতাধিক স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছেই। কয়েক দিন ধরে করোনাভাইরাস আতঙ্কে লোকজন বাড়িতে অবস্থান করার সুযোগ নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্রটি। আর অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, স্থাপনা নষ্ট হওয়া ছাড়াও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন করতোয়া নদী থেকে সংঘবদ্ধ একটি চক্র অবাধে বালু উত্তোলন করছে। নদীপারেই উত্তোলিত বালু শত শত ট্রলি ও ভারী যানবাহনে বিক্রি হলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ কারণে ভাঙছে জমি, পুকুরপার, রাস্তাঘাট। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ। অন্যদিকে ধুলাবালিতে একাকার হওয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধে মাইকিং করেছে। তবে করোনাভাইরাস আতঙ্কে লোকজন বাড়িতে থাকার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে চক্রটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুর-রংপুর জেলাকে বিভক্ত করে পীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার ধার ঘেঁষে প্রবাহিত করতোয়া নদী। একসময়ের খরস্রোতা করতোয়া বর্তমানে শুকিয়ে গেছে। চতরা, বড়আলমপুর কাবিলপুর ও টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের অর্ধশতাধিক স্থানে এবং নদীর ওপারে দিনাজপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে জোটবদ্ধ হয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানায়, চতরা ইউনিয়নের কুয়েতপুর হামিদপুরের নেংড়ার ঘাটে পাঁচটি স্থানে শামীম, সুজন, আবু তাহের, বাবু, মজিদ, নজরুল, ছকমল, আব্দুল মজিদসহ ১৬ জন বালু সন্ত্রাসী জোটবদ্ধ হয়ে একাধিক বোমা মেশিন দিয়ে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। ওই স্থানে শামীমের নেতৃত্বে বালু সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। বদনাপাড়ার টোংরারদহ এলাকায় সাবু মেম্বারের নেতৃত্বে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তা ছাড়া চক ভেকা, নুনদহ ঘাট ও কুমারপুরে বালু উত্তোলনের সঙ্গেও তারা জড়িত।

টুকুরিয়া ইউনিয়নে জয়ন্তীপুর ঘাট, সুজারকুটি, মোনাইল ও কাঁচদহঘাটে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে সুলতান মাহমুদ, মাহমুদ, আব্দুস সবুর, গোলাম রব্বানী, সোহরাব ও রবিউল। তা ছাড়া বড়আলমপুরের বাঁশপুকুরিয়ায় পৃথক ১০টি স্থানে মিজানুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে এবং কাবিলপুর ইউনিয়নের নিজ কাবিলপুর গ্রামের তিনটি স্থানে জুয়েল, হাসান আলী, আদিল ও বিপুর নেতৃত্বে বালু উত্তোলন চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তহশিলদারদের সঙ্গে বালু উত্তোলনকারীদের বিশেষ চুক্তি রয়েছে। এ জন্য বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম এ মমিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, বালু উত্তোলন বন্ধে মাইকিং করা হয়েছে। শিগগিরই করতোয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা