kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

উলিপুরে পাঁচ কোটি টাকার জলকপাট কাজে আসছে না

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উলিপুরে পাঁচ কোটি টাকার জলকপাট কাজে আসছে না

কুড়িগ্রামে উলিপুরের গোড়াইপিয়ার গ্রামে নির্মিত জলকপাটের ২৪টির ১৮টি কপাট অকেজো। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ২১ বছর আগে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত স্লুইস গেটটি বর্তমানে কোনো কাজে আসছে না। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গেটটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিস্তার ভাঙনে বুড়ি তিস্তা নদীর উৎসমুখে নির্মিত স্লুইস গেটটি নদীগর্ভে চলে যায়। পরে বুড়ি তিস্তার একপাশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেয়। আর অন্য অংশে, অর্থাৎ থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার এলাকায় ১৯৯৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অপরিকল্পিতভাবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ গেটবিশিষ্ট একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যে ২৪টি গেটের মধ্যে ১৮টিই অকেজো হয়ে পড়ে।

এদিকে স্লুইস গেটের উৎসমুখে তিস্তা নদী থেকে পলি মাটি জমে তা ভরাট হয়ে যাওয়ায় কোনো দিক থেকেই পানি নিষ্কাশন হয় না। এ পরিস্থিতিতে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে বুড়ি তিস্তা নদীর দক্ষিণ অংশে  জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে বুড়ি তিস্তার দুই পারের কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি ও শত শত পরিবারকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অন্যদিকে উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়ন থেকে চিলমারীর রাণীগঞ্জ পর্যন্ত বুড়ি তিস্তা নদীর প্রায় ২২ কিলোমিটার ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়ে ফেলে। এ সুযোগে নদী দখল করে নেয় অনেকে।

সম্প্রতি দলদলিয়া ইউনিয়নের অর্জুনে স্লুইস গেট নির্মাণসহ চিলমারীর কাঁচকোল পর্যন্ত বুড়ি তিস্তা নদী খনন ও দখলমুক্ত করার জন্য উলিপুর প্রেস ক্লাব ও রেল, নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি আন্দোলন শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বুড়ি তিস্তা খননের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু দক্ষিণ অংশের দলদলিয়া ইউনিয়নের দেবত্তর থেকে নাজিমখান পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার খনন না করায় এ অঞ্চলের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

দেবত্তর গ্রামের আব্দুল মালেক, মজিবর রহমানসহ কয়েকজন জানান, বর্তমানে স্লুইস গেটটি সংস্কারসহ  দক্ষিণ অংশের বুড়ি তিস্তা খনন ও সম্মুখ ভাগে পলি অপসারণ না করলে এ অঞ্চলের মানুষকে আরো দুর্ভোগ পোহাতে হবে। 

স্লুইস গেটের দায়িত্বে থাকা গেটম্যান আব্দুল বাতেন জানান, অকোজে গেটগুলো সংস্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে স্লুইস গেট মানুষের কোনো কাজে আসবে না। 

কুড়িগ্রাম পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্লুইস গেটটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব গেটগুলো সংস্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা