kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

নিম্নমানের মাস্ক দিয়ে ভরা বগুড়ার বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিম্নমানের মাস্ক দিয়ে ভরা বগুড়ার বাজার

বগুড়ায় বাজার ভরে গেছে নিম্ন মানের মাস্ক দিয়ে। ফলে মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও পুরোপুরি ঝুঁকি কাটছে না। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকা নিম্নমানের মাস্ক দিয়ে ভরে গেছে। ভ্রাম্যমাণ দোকানে ফেরি করে বিক্রি করা এসব মাস্ক নিরাপত্তা বন্ধনী হিসেবে ব্যবহার করছে সবাই। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, করোনার মতো ভাইরাস দমনে এসব মাস্ক কোনো কাজে আসবে না। এগুলো মুখে দিয়ে আক্রান্ত রোগীর কাছাকাছি গেলে ঝুঁকি আরো বাড়বে। তাঁরা বলেছেন, শুধু এন-৯৫ মাস্কই প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

এদিকে করোনা আতঙ্কে বিশ্বব্যাপী মাস্ক ব্যবহার বেড়ে গেছে। এ কারণে বাংলাদেশে মাস্কের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে বাজারে সার্জিক্যাল মাস্ক ও এন-৯৫ মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিকল্প উপায়ে সুরক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে অনেকে। আবার অনেকে মাস্কের সঠিক ব্যবহার ও গুরুত্ব না বোঝার কারণে ফুটপাতের নিম্নমানের মাস্কগুলো ব্যবহার করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব মেডিসিনের মেডিসিন ও এপিডেমিওলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ এলি পেরেনসভিচ তাঁর একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘আপনি যদি অসুস্থ হন এবং ওই অবস্থায় ঘরের বাইরে যেতে হয় তবে মাস্ক পরবেন। আপনার কোনো ধরনের ফ্লু থাকলে এবং সেটি কভিড-১৯ সন্দেহ হলে সুস্থ মানুষের সুরক্ষার জন্য এবং বাড়িতে নিজেকে অসুস্থ মনে হলে সদস্যদের রক্ষার জন্য আপনার মাস্ক পরা উচিত। তবে এটি অবশ্যই আসল জীবাণু প্রতিরোধক মাস্ক হতে হবে।’

বগুড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গেঞ্জির ঝুট কাপড়, ব্যাগ তৈরির জন্য ফেব্রিক টিস্যু ও সাধারণ কাপড় দিয়ে কোনো রকমে তৈরি করা হয়েছে এই মাস্কগুলো।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. রেজাউল আলম জুয়েল বলেন, একটি মাস্কে তিন স্তরের প্রটেকশন থাকতে হবে। অর্থাৎ তিনটি ভাঁজ থাকতে হবে। তাহলে সেটি ছোটখাটো জীবাণু মানুষের নাক-মুখ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা রোধ করতে পারবে। তবে তার পরও এটি করোনার জন্য যথেষ্ট নয়। এই ভাইরাসের জন্য অবশ্যই এন-৯৫ গ্রুপের মাস্ক পরতে হবে।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, যারা মাস্ক পরে ঘোরাফেরা করছে, তাদের প্রায় সবাই নিম্নমানের মাস্ক ব্যবহার করছে। জানতে চাইলে শহরের খান্দার এলাকার ব্যবসায়ী মীর কাশেম বলেন, ‘অত কিছু বুঝি না। হাতের কাছে যেটা পাচ্ছি সেটাই পরেছি। কাজ হবে কি না বলতে পারব না।’

শহরের সাতমাথা এলাকায় বাচ্চাসহ রিকশাযাত্রী ফরিদা পারভিন বলেন, ‘আমাদের কেউ জানায়নি কোন ধরনের মাস্ক পরতে হবে। আর বড় কথা হলো বাজারে যেটা পাওয়া যাচ্ছে আমরা তো সেটাই পরব।’

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এরপর পথেঘাটে, অফিসে অনেকেই মাস্ক পরছে। আবার মাস্ক ব্যবহারের পক্ষে-বিপক্ষে মতও দিচ্ছে অনেকে। ঘুরেফিরে উঠে আসছে একটি প্রশ্নই, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কতটা প্রতিরোধ করবে ফেস মাস্ক? তাঁর মতে, শুধু ফেস মাস্ক পরলেই নিজেকে নিরাপদ ভাবার সুযোগ নেই। পাতলা সার্জিক্যাল মাস্ক সাধারণ দূষণ, ধুলাবালি আটকাতে বেশি ব্যবহৃত হলেও তা পুরোপুরি নিরাপত্তা দেয় না। তবে ফ্লু আক্রান্ত ব্যক্তির মাস্ক পরা জরুরি। এর বাইরে মাস্কের দুটি উপকার আছে, মাস্ক পরা থাকলে নাকে-মুখে হাতের স্পর্শ পড়ে কম, আর একেবারে মুখের সামনে কেউ হাঁচি-কাশি দিলে তার থেকে মাস্ক কিছুটা নিরাপত্তা দেয়। তবে সাধারণ মাস্কের ফাঁকফোকর গলে ভাইরাস বা বাতাসবাহিত ড্রপলেট সহজেই প্রবেশ করতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাস্ক মুখে ঠিকমতো ফিটও হয় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা