kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

করোনার ঝুঁকি উপেক্ষা করে আন্দোলনে শ্রমিকরা

বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর সোনালি আঁশ জুটমিলের শ্রমিকদের

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার ঝুঁকি উপেক্ষা করে আন্দোলনে শ্রমিকরা

বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর সোনালি আঁশ জুটমিলের শ্রমিকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও কারখানা ভাঙচুর করেছে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শহিদনগর সোনালী আঁশ জুটমিলের শ্রমিকরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মিলের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এর আগে সকালে শ্রমিকরা কয়েকটি সিসি ক্যামেরা ও সার্ভার কক্ষ ভাঙচুর করে। মহাসড়ক অবরোধের ফলে উভয় পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, করোনাভাইরাসের হুমকি মাথায় নিয়ে কাজ করার পরও বেতন পাচ্ছে না। দিই-দিচ্ছি করে আট সপ্তাহ পার হয়েছে। গত ২১ মার্চ মিলের উপসহকারী প্রকৌশলী শামীম আহম্মেদ শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের দাবি জানান মালিকপক্ষের কাছে। পরে রাতেই মালিকপক্ষের লোকজন শামীমকে মারধর করে পরদিন চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে মিল থেকে বের করে দেয়। ২৫ মার্চ শ্রমিকরা বেতন পরিশোধের দাবি জানালে স্থানীয় মনির হোসেন নামের মিলের এক কর্মচারী শ্রমিকদের ওপর হামলা চালান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সোনালী আঁশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে ৩০ মার্চ শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয় মালিকপক্ষ।

এদিকে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করায় ২৭ মার্চ প্রায় ৫০ জন শ্রমিককে এক সপ্তাহের বেতন পরিশোধ করে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে মিল কর্তৃপক্ষ। ওই শ্রমিকরা গতকাল দুপুরে মিল গেটে বিক্ষোভ করলে ভেতরে কাজ করা শ্রমিকরাও এসে তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গেটের কয়েকটি সিসি ক্যামেরা ও সার্ভার কক্ষ ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় কারখানার আনসার বাহিনী কয়েকজনকে মারধর করে। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের পর বিক্ষোভ করে।

আন্দোলনকারী শ্রমিক আমেনা বেগম বলেন, ‘সারা দেশে করোনাভাইরাসের কারণে মিল বন্ধ করে শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আমাদের বলেছে, শিপমেন্ট শেষ করলে আট সপ্তাহের বেতন দিয়ে দেবে। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার পরও বেতন না দিয়ে উল্টো যারা আন্দোলন করেছে তাদের নির্যাতন করেছে। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত আমরা মহাসড়ক অবরোধ চালিয়ে যাব।’

কারখানার ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাবে আমাদের শিপমেন্ট বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের কয়েক সপ্তাহের বেতন আটকে গেছে। আমরা যে শিপমেন্ট পাঠিয়েছি বিদেশ থেকে টাকা না আসায় বেতন দিতে পারিনি। এ নিয়ে ২৫ মার্চ আন্দোলন করা হলে কয়েকজনকে বেতন দিয়ে ছাঁটাই করা হয়। পরে তারা এসে আজকে (গতকাল) হামলা-ভাঙচুর চালায়।’ এ হামলায় কারখানার ক্ষতির পরিমাণ অন্তত দুই কোটি টাকা বলে দাবি করেন তিনি।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সারা বিশ্বের জন্য এখন সংকটময় সময় চলছে। এ সময়ে অনেক কারখানা বন্ধ থাকলেও সোনালী আঁশ কারখানাটি তাঁরা চালাচ্ছেন। আর এই সংকটময় মুহূর্তে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনের কথা শুনে গত সপ্তাহে জানতে পারি যে শ্রমিকদের এক কোটি ১৯ লাখ টাকা বেতন বকেয়া। তখন মালিকপক্ষ গত রবিবার বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। আজকের (গতকাল) হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার পর মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম, মডেল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ আলম সরকার, আন্দোনকারী শ্রমিক নেতা ও মালিকপক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা