kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

পঞ্চগড়

ত্রাণের জন্য পথে পথে দুস্থরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পঞ্চগড়ে অঘোষিত লকডাউন চলছে। প্রশাসন জেলার সব দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করেছে। সাপ্তাহিক হাট ও পশুর হাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ এড়াতে সড়কে যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বিপাকে পড়ে যায় জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। দিন এনে দিন খায়—এই শ্রেণির মানুষেরা চরম দুর্ভোগে রয়েছে। দিন দিন তাদের দুর্ভোগ ও সংকটের পাল্লা ভারী হচ্ছে। জরুরিভাবে তাদের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছানো না গেলে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেনাবাহিনী টহল শুরু করার পর থেকে কয়েক দিন শহর থেকে গ্রামের মানুষজন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চললেও গতকাল থেকে হাট-বাজারে আবারও জটলা দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন থাকলে তারা সরে যাচ্ছে। তারা চলে গেলে আবারও ভিড় বাড়ছে। গতকাল থেকে হাট-বাজার ও পথঘাটে খেটে খাওয়া মানুষের অন্য রকম এক চিত্র দেখা গেছে। ত্রাণ সহায়তার জন্য পথে পথে ঘুরছে তারা। কে কখন সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে আসবে—এ অপেক্ষায় কড়া রোদে বসে রয়েছে তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুপুরে সূর্যের কড়া তাপ উপেক্ষা করে কয়েকজন জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণের মধ্যে রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে কয়েকটি কার্টন নিয়ে একটি ভ্যান আসে। ভ্যান দেখামাত্রই দৌড়ে আসে দুস্থরা। পরে দেখা যায়, রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে একটি করে সাবান বিতরণ করা হচ্ছে। ৩০ টাকা মূল্যের একটি করে ব্যাকট্রল সাবানের জন্য কয়েক শ মানুষের কাড়াকাড়ি। মুহূর্তেই সাবানও শেষ হয়ে যায়। কিন্তু চাল-ডাল সহায়তার আক্ষেপ থেকেই যায় ওই সব দুস্থ মানুষের। ক্ষুধার্ত মানুষের চোখে ত্রাণের আকুতি দেখা যায়। এদিকে নিম্ন আয়ের লোকজনও পড়েছে বিপাকে। এই সময়ে তাদের ঘরে ধান না থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

জেলা শহরের রামেরডাঙ্গা এলাকার রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, ‘রিকশা নিয়ে বের হলেই ধরছে পুলিশ। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের করোনায় নয়, মরতে হবে না খেয়ে।’ পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত জেলার তিন হাজার মানুষের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। পাঁচ লাখ টাকা ও ৩০ টন চাল ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা