kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাতে বাড়ে জনসমাগম

সন্ধ্যা হলেই পাড়া-মহল্লায় চলে আড্ডাবাজি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাতে বাড়ে জনসমাগম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন হাট-বাজারে সন্ধ্যার পর বাড়তে থাকে ক্রেতার ভিড়। ছবিটি গত শনিবার রাতে শহরের মেড্ডা কাঁচাবাজার থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ক্রেতা না থাকায় গতকাল রবিবার দুপুরে দোকানে বসে ঝিমাচ্ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার জগত বাজারের খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. ইমন। এ সময় তিনি জানান, করোনার প্রভাবে ক্রেতা না থাকায় দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মাত্র ১৫০ টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন।

কিন্তু শনিবার রাতে ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে মেড্ডা কাঁচাবাজারে। মাছ ও সবজি কিনতে ক্রেতাদের বেশ ভিড়। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, গত তিন দিন ধরেই চলছে এ অবস্থা। দিনের বেলায় তেমন ক্রেতা না থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে বাড়তে থাকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বত্রই দেখা গেছে এ চিত্র। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে দিনের বেলা খুব একটা লোকসমাগম চোখে পড়ে না। তবে রাতে প্রশাসনের ‘নমনীয়তার’ সুযোগে অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছে, বিশেষ করে পাড়া-মহল্লাগুলোতে থেমে নেই মানুষের আড্ডা।

শনিবার রাত ৮টার দিকে টিএ রোডের মঠের গোড়ায় কয়েকজনকে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। তাদের বেশির ভাগই ছাত্র ছিল। দিনে গৃহবন্দি থাকায় মানসিক তৃপ্তির জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছে বলে জানায় তারা।

ছাড়পত্র পেল এক হাজার ৭৯৫

জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান জানিয়েছেন, এ জেলায় মোট দুই হাজার ৭৬৭ জনকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়।

এর মধ্যে এক হাজার ৭৯৫ জনকে মেয়াদ শেষ হওয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৯৭২ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করছেন কুমিল্লা সেনানিবাসের ৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর মো. মাহফুজ আলম। গতকাল পৌর এলাকার কাজীপাড়ায় এক বিদেশফেরত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘আস্সালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? আপনার তো কোয়ারেন্টিন চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক? হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’ এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বি এম মশিউজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহ মো. শরীফ ও পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।

সতর্কতামূলক মাইকিং

এদিকে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার এতে কণ্ঠ দিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে মাইকিং করে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান ওই নেতা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। ওই নেতার কণ্ঠে মাইকিংয়ের বিষয়টি এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা