kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৬  মে ২০২০। ২ শাওয়াল ১৪৪১

পাঁচবিবিতে গোপনে দরপত্র

ভাঙ্গুড়ায় জমা দিল মাত্র ১৭ জন
দরপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করার দাবি

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) ও ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার সুযোগে গোপনে কাউকে না জানিয়ে গভীর রাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির দরপত্রের লটারি করেছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা প্রকৌশলী। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যাহারের দাবি করেছেন ঠিকাদাররা। তবে জয়পুরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ছুটির দিনে দরপত্রের লটারি করায় সব কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় আটটি গ্রুপে প্রায় ৫২ লাখ টাকার দরপত্রে ছয় শর মতো দরপত্র বিক্রি হয়। তবে নির্ধারিত তারিখে দরপত্রের লটারি না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান উপজেলা প্রকৌশলী।

এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটির মধ্যেই ২৮ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে না জানিয়ে অনলাইনে লটারির আযোজন করেন। বিষয়টি গতকাল দুপুরে জানাজানি হয়।

এ বিষয়ে হানি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু বক্কর সিদ্দিক মিন্নুর ও রওশন আরা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাফিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে উপজেলা প্রকৌশলীর পদত্যাগ দাবি করেন।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম কাউকে না জানিয়ে লটারি করাতে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাদিম সারওয়ার বলেন, ‘বিষয়টা উপজেলা চেয়ারম্যান আমাকে জানিয়েছেন। অফিস খুললে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে পারব।’

উপজেলা চেয়ারম্যান মুনিরুল শহিদ মণ্ডল জানান, কোনোভাবেই রাতে লটারির বিষয়টা মেনে নেওয়া হবে না। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয়পুরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলি এফ এম খায়রুল ইসলাম জানান, ছুটির দিনে দরপত্রের লটারি করায় পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে পুনঃ দরপত্র আহ্বান করা হবে।

এদিকে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল রিকুইজিট (এমএসআর) দরপত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার দুপুরে দরপত্র জমাদানের শেষ সময় ছিল। এর মধ্যে ৫৫ জন দরপত্র কিনলেও জমা দিয়েছেন মাত্র ১৭ জন। করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দরপত্রের কার্যক্রম স্থগিত না করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

জানা যায়, গত ১০ মার্চ ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআরের জন্য দরপত্র আহ্বান করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম। এতে ছয়টি ক্যাটাগরিতে ৫৫ জন দরপত্র কেনেন। এরপর গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত দরপত্র জমা নেওয়া হয়। পরে সাড়ে ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দরপত্রের বাক্স খোলা হয়। এতে দেখা যায়, ছয়টি ক্যাটাগরিতে ১৭ জন দরপত্র জমা দিয়েছেন। আর ৩৮ জন ব্যক্তি দরপত্র কিনলেও জমা দিতে আসেননি। এমনকি যাঁরা দরপত্র জমা দিয়েছেন তাঁরাও সংশ্লিষ্ট অফিসে নিজে না এসে অন্যকে দিয়ে জমা দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দরপত্র জমাদানকারী বলেন, করোনাভাইরাসের ঝুঁকির কারণে বাসা থেকে বের হওয়াই দুষ্কর। এরই মধ্যে হাসপাতালের দরপত্র জমা দিতে হলো। কাজটিতে এত তাড়াহুড়া না করলেও চলত।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হালিমা খানম বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি দরপত্রের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলেননি। তা ছাড়া

হাসপাতাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও থানা চালু আছে। তাই দরপত্রের কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময় অনুসারে করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা