kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৬  মে ২০২০। ২ শাওয়াল ১৪৪১

প্রশাসনই মানছে না দূরত্ব

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ত্রাণ বিতরণকালে সৃষ্টি হচ্ছে জনসমাগম

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রশাসনই মানছে না দূরত্ব

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সামাজিক দূরত্ব মানছেন না খোদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। অথচ কোনো কাজে একই স্থানে জড়ো হওয়া শ্রমজীবী মানুষ এ দূরত্ব বজায় রাখছেন। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ বন্ধ রেখে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা শ্রমজীবী, দিনমজুরদের জন্য চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। লক্ষ্মীপুরে চারটি পৌরসভা ও ৫৮টি ইউনিয়নের জন্যও এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পৌরসভা ও ইউনিয়নপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ আছে। কিন্তু এসব বিতরণ করতে গিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জনসমাগম সৃষ্টি করছেন। রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

গতকাল রবিবার দুপুরে ওই ইউনিয়নে শ্রমজীবীদের মাঝে সরকারি বরাদ্দের চাল ও টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য গোল বৃত্তে শ্রমজীবীদের দাঁড় করানো হয়। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতারা একে অন্যের গায়ে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি মুচকি হেসে বলে ওঠেন, ‘নিয়ম শুধু দিনমজুরদের জন্য, প্রশাসন আর নেতাদের জন্য নিয়ম বলে কিছু নেই।’

চাল বিতরণকালে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মোমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুচিত্র রঞ্জন দাস, উপজেলা চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াদ হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম পাঠান, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন ও বড়খেরী ইউপি চেয়ারম্যান হাসান মাকসুদ মিজানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও গ্রাম পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হাতে গ্লাভস থাকলেও অন্যদের হাতে ছিল না। তবে সবাই মাস্ক ব্যবহার করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রামগতিতে পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের জন্য ৯ টন চাল ও ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন দিনমজুরদের জন্য এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।

জানতে চাইলে রামগতির ইউএনও মো. আবদুল মোমিন বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস বাধ্যতামূলক। কিন্তু দিনমজুররা তা পরে আসেনি। এ জন্য তাদের সামাজিক দূরত্বে গোল বৃত্তে দাঁড় করানো হয়েছে। তবে আমাদের আশপাশের সবার মুখে মাস্ক ছিল। হ্যান্ড গ্লাভসের দিকে লক্ষ করিনি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য সবাই সতর্ক থাকব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা