kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

নাটোরে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে জনস্রোত

অভিযান চালিয়ে পাঁচটি হাট বন্ধসহ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর   

২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাটোরে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে জনস্রোত

জনসমাগম এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা থাকলেও গতকাল বাজারে ছিল মানুষের ভিড়। বাঁয়ের ছবিটি নাটোর শহরের। ডানেরটি রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার সবজিপট্টি থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসমাগম ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি মানছে না নাটোরের গ্রামবাসী। জেলার হাটগুলো এখনো জমজমাট। চায়ের স্টলগুলোতে এখনো মানুষের নিয়মিত আড্ডা জমছে। খোলা রয়েছে দোকানপাট। গতকাল জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি হাট বন্ধ ও কয়েকজনকে জরিমানা করলেও থামছে না মানুষের স্রোত।

জানা যায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৬ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সামাজিক দূরত্ব অভিযান শুরু হয়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া নাগরিকদের বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের এ ঘোষণা জেলা ও উপজেলা সদরসহ বড় বাজারগুলোতে কার্যকর করা গেলেও সাপ্তাহিক হাটবারগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। গ্রামের ছোট বাজারগুলোতে জমছে ক্রেতাদের ভিড়। সকালে-বিকেলে চায়ের স্টলগুলোতে আড্ডা জমাচ্ছে গ্রামবাসী। সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া, বিয়াশ, বড়গ্রাম, সাতপুকুরিয়া, বামিহাল, কলমসহ বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিয়াশ বাজারের স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিকেলে লোকজনকে ঠেকানো যাচ্ছে না। সবাই বাজারে এসে ভিড় করছে। এদের মধ্যে কিছু বিদেশফেরতরাও আছেন, যাঁদের সহজে শনাক্ত করা যাচ্ছে না।’

নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী, নলডাঙ্গার মোমিনপুর, রামশা কাজীপুর, আমতলিসহ বিভিন্ন এলাকায় লোকজনের সমাগম দেখা যাচ্ছে। জেলার লালপুর, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রামসহ প্রায় সব উপজেলার গ্রামগুলোর দৃশ্য অনেকটা একই রকম।

গত শুক্রবার নাটোর সদরের হালসা, বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা, সিংড়া উপজেলার জামতলি, বড়াইগ্রাম উপজেলার বড়াইগ্রামের মৌখাড়া ও ভরতপুর হাট বন্ধ করা হয়েছে। গতকাল নলডাঙ্গা উপজেলা সদর হাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানসহ সামাজিক দূরত্ব বিধান মেনে না চলায় চার ব্যক্তিকে সাড়ে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। হাটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, কাঁচাবাজার ও কৃষিপণ্যের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার নাটোর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু হাসান পুলিশের সহায়তায় মৃদু লাঠিপেটা করে হাটের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে হাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা সবার মেনে চলা উচিত। এ জন্য শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ের মানুষগুলোকে সচেতন করতে হবে। সচেতন করা না গেলে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।’

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘বিষয়টি আমিও জেনেছি। শুক্রবার থেকে গ্রামগুলোতে অভিযান চালানো শুরু হয়েছে। এটি একটি যুদ্ধ। এই যুদ্ধে আমাদের জিততেই হবে।’

জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলেই ভ্রাম্যমাণ টিম গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মনিটর করছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে গ্রাম এলাকায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হবে। এ কাজে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা