kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

স্বজনরাও বিপাকে

সিলেটে বিদেশফেরত ও তাঁদের স্বজন মিলে হোম কোয়ারেন্টিনে আছে ১১৮৪ জন

সিলেট অফিস   

২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বজনরাও বিপাকে

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে বর্তমানে এক হাজার ১৮৪ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছে। দুই দিন আগে এ সংখ্যা ছিল দুই হাজারের বেশি। কোয়ারেন্টিনে থাকা বেশির ভাগই প্রবাসী ও তাঁদের স্বজন।

গতকাল শনিবার প্রবাসীবহুল বিশ্বনাথ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার একাধিক প্রবাসীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁদের মতে, তাঁরা নিয়ম মেনে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তা ছাড়া আত্মীয়-স্বজনও তাঁদের কাছে আসছে না। এ অবস্থায় অনেকটা বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

বিশ্বনাথ উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ বিভিন্ন দেশে বসবাস করে আসছেন। এরই মধ্যে কয়েক শ প্রবাসী দেশে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি যাঁরা দেশে এসেছেন তাঁদের মধ্যে ৯০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই যুক্তরাজ্য থেকে এসেছেন। উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘গত ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসি; কিন্তু এখনো গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছি। ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আমাকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’

উপজেলার উত্তর মিরেরচর গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী লিটন মিয়া বলেন, ‘তিন দিন আগে দেশে এসেছি; কিন্তু ঘরে থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। ঘরের ভেতরেই অবস্থান করছি। কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারছি না।’

উপজেলার কারিকোনা গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী হেলাল মিয়া বলেন, ‘দেশে এসে পড়েছি মহাবিপাকে। আত্মীয়-স্বজন কিংবা প্রতিবেশী কারো সঙ্গে দেখা করতে পারছি না। সরকারের আদেশমতো ঘরে অবস্থান করছি।’

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিয়ানীবাজারে ৭৪২ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা বিয়ানীবাজারের দাসুরা এলাকার যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জুবের আহমদ জানান, গত ১৯ মার্চ পরিবার নিয়ে দেশে ফেরার পর থেকে নিজ উদ্যোগে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা করতে না পেরে খানিকটা দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এতে তাঁর পরিবারের তেমন কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নিয়মনীতি সম্পর্কে তাঁকে কিছুই অবহিত করা হয়নি। এমনকি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়নি।

যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সুরেতুন নেছা (৭২) জানান, দেশে ফিরে তিনি আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা না করে নিজেকে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখেছেন। করোনাভাইরাস সম্পর্কে সঠিক কোনো কিছু জানেন না তিনি। তবে প্রবাসী স্বজনদের কথামতো তিনি দেশে ফেরার পর থেকে নিজ বাড়িতে আলাদা কক্ষে অবস্থান করছেন।

কাতারপ্রবাসী সুহেল আহমদ জানান, তিনি ২১ মার্চ দেশে ফেরার পর থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। প্রবাসে বন্দি জীবন থেকে ফিরে দেশেও বন্দি জীবন অনেক কষ্টে পার করছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, মোবাইল ফোনে গান শুনে ও ফেসবুক ব্যবহার করে অলস সময় পার করছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়িতে এসে খোঁজখবর নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা