kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

অস্থির রাত শেষে স্বস্তির দিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির আশায় রং চা খাওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। কেউ কেউ ডাবগাছের গোড়ায় পানি ঢেলেছে। অনেকেই আবার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কায় বাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় ভিড় করেছিল। কোনো কোনো মসজিদে আজান হচ্ছিল। আবার কোথাও কোথাও একাধিক বাড়ি থেকে আসছিল উলুধ্বনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত চলে এসব কাণ্ড।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো গুজবে কান দিয়ে অনেকেই আজগুবি ওই সব কাজ করে। আতঙ্কিত হয় বিভিন্ন জনপদ। ফেসবুকেই ওই সব বিষয়কে গুজব উল্লেখ করে বিশ্বাস না করার জন্য মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। গুজবের ওই অস্থির রাত শেষে গতকাল শুক্রবার দিনভর বেশ শান্ত ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া। প্রশাসনের তদারকির মুখে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বের হয়নি। শুক্রবার হলেও মসজিদগুলোতে নামাজির সংখ্যা ছিল তুলনামূলক অনেক কম। নির্ধারিত দোকান ছাড়া সব দোকানই বন্ধ ছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাউতলী থেকে কুমারশীল পর্যন্ত সড়কটি সবচেয়ে ব্যস্ততম। শুক্রবার দিনভর ওই সড়কে সুনসান নীরবতা লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে রেলগেট থেকে কুমারশীল মোড় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ছিল একেবারেই ফাঁকা।

নবীনগর উপজেলায় সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুমের উদ্যোগে পৌর এলাকায় খোলা থাকা নির্ধারিত বিভিন্ন দোকানের সামনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে লাল দাগ দিয়ে দেওয়া হয়। ওই দাগের মধ্যে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা পণ্য নেবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের না হতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুজনের বেশি ঘোরাফেরা করতে দেখলে জরিমানা করার কথা জানিয়ে মাইকিংও হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌর এলাকার কাউতলীতে মাস্ক না পরায়, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে একসঙ্গে ঘোরাফেরা করায় চার যুবককে কান ধরে উঠবোস ও এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখে দায়িত্বরত পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা