kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

মাইকিং করার পাশাপাশি সেনা সদস্যরা শহরে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন। ছবিটি গতকাল বগুড়া শহরের সাতমাথা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিশেষ পদক্ষেপের ফলে ফাঁকা হয়ে গেছে দেশের রাস্তাঘাট। ওষুধের দোকান আর কাঁচাবাজার সীমিতভাবে খোলা থাকলেও বন্ধ হয়ে গেছে দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ, অফিস-আদালত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এ অবস্থায় আয় কমে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা বেশ বিপাকে পড়েছে। বিস্তারিত কুড়িগ্রাম, বিরামপুর (দিনাজপুর), পাটগ্রাম (লালমনিরহাট), কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদনে :

গতকাল শুক্রবার সকালে কুড়িগ্রাম শহরের খলিলগঞ্জ, কলেজ রোড, বাস টার্মিনাল, ঘোষপাড়াসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় লোকজন নেই। রিকশা-ভ্যানের সংখ্যাও হাতে গোনা। তাও যাত্রীর অভাবে অলস বসে আছেন চালকরা। দিনমজুর, শ্রমিকদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রেদোয়ান ফেরদৌস সজীব জানান, চিকিৎসক ও নার্সদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে সুচিকিৎসা দেওয়ার জন্য। তবে গুরুতর অসুস্থ ছাড়া কাউকে ভর্তি করা হচ্ছে না।

দিনাজপুরের বিরামপুর শহরের রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা। ওষুধ আর কাঁচামালের দোকান ছাড়া তেমন কোনো দোকানপাট খোলা নেই। শহরে মাইকে চলছে করোনাভাইরাসবিরোধী প্রচারণা। পৌরসভার প্রবেশমুখে স্থায়ীভাবে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা ছাড়া থানা, উপজেলা গেট, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অস্থায়ী হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকলে শরীরে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের মধ্যেও থেমে নেই দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ। বিরামপুর পৌরসভার উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে।

গতকাল সকাল থেকে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপজেলাজুড়ে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. সোলায়মান হোসেন মেহেদী বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আট বছরের এক শিশুসহ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সহকারীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে।

শ্রমজীবী মানুষের কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন লালমনিরহাটের পাটগ্রামের খেটে খাওয়া শ্রমিকরা। বিশেষ করে ৮-১০ হাজার পাথরভাঙা শ্রমিক কাজ হারিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। পরিবারের খাবার জোগাতে এসব মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

দহগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা ভ্যানচালক শাহিনুর ইসলাম ও বাউরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইজি বাইকচালক মো. মিলন হোসেন বলেন, ‘ভ্যান না চলাইলে খাম কী? আগে দিনে আয় হইত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। এখন দেড়-দুই শ আয় করাই কঠিন।’

এ বিষয়ে বাউরা ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর কাজল মিয়া বলেন, ‘প্যাট কি আর অসুখ মানে! হামার হাত দুকোনার উপরোত চলে অভাবের সংসার। নিজের জমিজমা নাই। মানষির জমিত থাকি। কাজ বন্ধ হওয়ায় খুব কষ্টে আছি।’

উপজেলার নবীনগর গ্রামের দুগ্ধ খামারি মো. একরামুল হক বলেন, ‘খামার থেকে দৈনিক প্রায় ৬০ লিটার দুধ পাই। এখন হোটেল ও চায়ের দোকোন বন্ধ থাকায় দুধ বিক্রি করতে পারছি না। পশুখাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ রকম অবস্থা আর কিছুদিন চললে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হবে।’

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ তৎপরতার কারণে শহরের ব্যস্ততম রাস্তা এখন সুনসান নীরব। তবে গ্রামের দিকে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে। গ্রামের চায়ের দোকানগুলোতে আগের মতোই আড্ডা চলছে।

এদিকে করোনা আতঙ্কে উপজেলার হাসপাতালগুলো প্রায় রোগীশূন্য। কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রশিদ বলেন, রোগীরা হাসপাতালে থাকতে চাচ্ছে না। তাদের বুঝিয়েও কাজ হচ্ছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা