kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

কিশোরগঞ্জ

ঢাকাফেরত আতঙ্ক

নাসরুল আনোয়ার, হাওরাঞ্চল   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকাফেরত আতঙ্ক

কিশোরগঞ্জে এখন বিদেশফেরত ব্যক্তিদের পেছনে আর ছুটছে না প্রশাসন। যাঁদের মধ্যে করোনার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিচ্ছে এবং ঢাকা থেকে যাঁরা বাড়ি ফিরেছেন, তাঁদের দিকেই প্রশাসন বেশি মনোযোগী। প্রশাসন বলছে, ঢাকা থেকে দুই দিনে যাঁরা গ্রামে ফিরেছেন, তাঁরা কোনো করোনা রোগীর সংস্পর্শে গেছেন কি না তা যাতে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয় এ কারণে তাঁদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত তিন মাসে বিদেশ থেকে কতজন ফিরেছেন, তার সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের হাতে এই সময় ফেরা প্রবাসীদের তিনটি তালিকা রয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে পাওয়া এসব তালিকায় মাত্র ৪৩২ জনের নাম রয়েছে। এদিকে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণসংখ্যক ৮৯৬ জন বিদেশফেরত ব্যক্তিকে এ পর্যন্ত হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছে প্রশাসন।

প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে, গত তিন মাসে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরসহ ১৩ উপজেলায় কয়েক হাজার প্রবাসী ফিরে এসেছেন। একটি মাত্র উপজেলায় দুই হাজারের মতো প্রবাসীর এলাকায় ফেরার খবর রয়েছে। কিন্তু নানা জটিলতায় বিদেশফেরতদের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, তাই বিদেশ থেকে আসা সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় করোনা নিয়ে জেলাবাসীর আতঙ্ক কাটছে না।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মজিবুর রহমান খান জানান, বিদেশফেরত ব্যক্তিদের তালিকা নিয়ে নানা সমস্যা আছে। ঠিকানা মতো তাঁদের পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা, পুলিশ ও স্বাস্থ্য প্রশাসন এ তালিকা সমন্বয় করছে। তবে গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই তালিকার পরিবর্তে কেবল মার্চ মাসে আসা ব্যক্তিদের বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে দুই দিনে ঢাকা থেকে যাঁরা বাড়ি ফিরেছেন, তাঁদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিভিল সার্জন আরো জানান, ঢাকাফেরত মানুষেরা কোনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসতে পারেন। ওই ব্যক্তিও সেটি হয়তো জানেন না। তাঁরা কেউ জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলেও বোঝার উপায় নেই। তিনি বলেন, ‘বিদেশফেরত ব্যক্তিদেরই যেখানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে ঢাকাফেরত ব্যক্তিদের কী করে পাওয়া সম্ভব! তবে তাঁদেরও খোঁজা হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে পাওয়া তালিকায় কেবল প্রবাসীদের পাসপোর্ট নম্বর ও সংক্ষিপ্ত ঠিকানা রয়েছে। তালিকায় পাসপোর্টধারীর মোবাইল ফোন নম্বরও দেওয়া নেই। আর তালিকায় যে ঠিকানা দেওয়া আছে, এটি পাসপোর্ট করাকালীন ঠিকানা। অধিকাংশই আর ওই ঠিকানায় অবস্থান করছেন না। ফলে তালিকাভুক্তদের খুঁজে পেতে প্রশাসন ঘেমে উঠছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা