kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

১১০০ শ্রমিকের বিরুদ্ধে ভাঙচুর মামলা

দিনাজপুরে জুটমিলে বিক্ষোভ পুলিশের গুলিতে দোকানি নিহত

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিনাজপুরের বিরলে রূপালী বাংলা জুটমিলে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এক হাজার ১০০ জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের ঘটনায় কোনো মামলা করেনি পরিবার কিংবা শ্রমিকরা।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, বুধবার বিকেলে নোটিশ ছাড়াই বিরল উপজেলার রূপালী বাংলা জুটমিল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত হয়নি। যাতে করে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ভাঙচুর শুরু করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে, যাতে সুরত আলী নামের একজন পান দোকানি নিহত হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। আর পুলিশ দাবি করেছে, এই ঘটনায় তাদের ছয়জন সদস্য আহত হয়েছে। নিহত সুরত আলী বিরল পৌরসভার হোসনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

মিল মালিক বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘টাকার সংকট থাকায় বুধবার বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু শ্রমিকরা তা বুঝতে চায়নি। তারা ভাঙচুর  করলে পুলিশ গুলি চালায়।’

বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সবুজার সিদ্দিক সাগর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগামী রবিবারের সমুদয় বকেয়া বেতন দেওয়া হবে বলে শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়েছেন।

বিরল থানার পরিদর্শক শেখ নাসিম হাবিব জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১০-১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো এক হাজার ১০০ জন শ্রমিককে আসামি করে মামলা করেছেন বিরল থানার উপপরিদর্শক আব্দুল কাদের। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে একই ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই সদস্যবিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সচিন চাকমাকে। বাকি দুজন সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) হাফিজুল ইসলাম ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক এ টি এম গোলাম রসুল। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম ও সদস্য বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত রহমান। দুটি কমিটিই আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য