kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

ভাঙ্গুড়ায় রোগী দেখতে চিকিৎসকদের অনীহা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে রোগী দেখতে চিকিৎসকদের অনীহার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মিটিংয়ের কথা বলে গত মঙ্গল ও বুধবার চিকিৎসকরা চেম্বার ছেড়ে বেশির ভাগ সময় হলরুমে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে। এতে অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জামাদি না পেয়ে চিকিৎসা দিতে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে স্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের চারজন চিকিৎসকের কেউই তাঁদের কক্ষে নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অফিশিয়াল কাজ নিয়ে তাঁর কক্ষে ব্যস্ত। এ সময় চিকিৎসা না পেয়ে রোগীদের ফিরে যেতে দেখা যায়। রোগীরা চিকিৎসকদের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা হাসপাতালের হলরুমে মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারীরা জানান। তবে এ সময় হাসপাতালের আন্তর্বিভাগে কর্মরত উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসারদের (স্যাকমো) চিকিৎসা দিতে দেখা যায়। তাই মেডিক্যাল অফিসার না পেয়ে ফিরে যাওয়া রোগীদের অনেকে স্যাকমোদের দিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, উপজেলায় বর্তমানে ২২ জন বিদেশফেরত ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। এ ছাড়া হাসপাতালে আইসোলেশনের জন্য চারটি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার বলেন, করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মেডিক্যাল অফিসাররা রোগী দেখতে অনীহা প্রকাশ করছেন। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসারদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের ওপর রোগীদের প্রচণ্ড চাপ পড়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের বাসিন্দা শাহিবুল ইসলাম বলেন, ‘গত দুই দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি। কিন্তু কোনো ডাক্তারকে পাইনি। শুনেছি, তাঁরা নাকি মিটিংয়ে ব্যস্ত। তাই পরে উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম বলেন, ‘বর্তমানে চিকিৎসকরা নিজেদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নিজেদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি না থাকায় রোগী দেখতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না চিকিৎসকরা। তবে অসুস্থ ব্যক্তিদের আন্তর্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সর্দি-জ্বরের রোগীদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফোনে জানিয়ে তারপর আসতে বলা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা