kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

‘অটোরিকশা বন্ধ হলে খাব কী?’

রাজশাহী নগরীতে মাইকিং করে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহী নগরীতে প্রতিদিন অটোরিকশা চালান শহিদুল ইসলাম। এ জন্য অন্যের অটোরিকশা ভাড়া নিতে হয় তাঁকে। গতকাল সকাল থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি নিয়ে বের হয়েছিলেন রাস্তায়। তবে দুপুর ১টা পর্যন্ত তাঁর আয় হয়েছে মাত্র ১২৫ টাকা।

অন্য সময় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৩০০ টাকা আয় হতো তাঁর। এরপর দুপুরে বাসায় ফিরে খাওয়াদাওয়া শেষে আবার বের হয়ে রাত ৯-১০টা পর্যন্ত অটোরিকশা চালাতেন তিনি। এতে দিন শেষে তার ৫০০ টাকা আয় হতো। রিকশার জমা খরচ বাদ দিলে অন্তত ২৬০ টাকা নিয়ে ঘরে ফিরতে পারতেন শহিদুল। আবার কোনো কোনো দিন ৪০০-৫০০ টাকা নিয়েও বাড়ি ফিরতেন। এভাবেই সংসার চলত শহিদুলের।

কিন্তু গত রবিবারের পর থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত করোনা আতঙ্কের কারণে দিনে ১৫০ টাকা নিয়েও ঘরে ফিরতে পারেননি শহিদুল। ফলে সংসার চালানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। এর ওপর আজ থেকে গণপরিবহন বন্ধ হওয়ার কথা শুনে চরম আতঙ্কে আছেন নগরীর কয়ের দাঁড়া এলাকার শহিদুল। তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা ভাড়া চালাই। দিন আনি, দিন খাই। এখন রাস্তায় বের হয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরেও দুই-একজন লোক উঠছে। শুনেছি, বৃহস্পতিবার (আজ) থেকে অটোরিকশা রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না। অটোরিকশা বন্ধ হলে খাব কী? এ কথা ভাবতেই বুক ফেটে যাচ্ছে।’

এদিকে গতকাল দুপুর থেকেই রাজশাহীর দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। সকাল থেকে কিছু কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও দুপুর ১২টা থেকে সেগুলো বন্ধ হতে শুরু করে। পুলিশ মাইকিং করে দোকানপাট বন্ধ করার নির্দেশ দিলে ব্যবসায়ীরা তা মেনে নিয়ে বাসায় ফিরে যেতে শুরু করেন।

তবে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও গতকালও সীমিত আকারে যানবাহন চলছে। ফলে রাস্তা-ঘাট অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। রাস্তায় অটোরিকশা, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার এবং কিছু বাসও চলাচল করতে দেখা গেছে।

নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী রিয়ন বলেন, ‘সকালে দোকান খুলেছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন এসে দোকান বন্ধ করতে বলেন। ফলে দোকান আবার বন্ধ করে দিয়েছি। আবার দোকান খোলা রেখেও ব্যবসা হচ্ছে না। করোনা নিয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ভর করে আছে। তাই খুলে রেখেও কোনো লাভ নেই।’

চা ব্যবসায়ী আজাদ বলেন, ‘দোকান বন্ধ করে চলব কী করে? সংসার তো চালাতে হবে। এ কারণে সকালে খুলেছিলাম। অল্প কিছু বেচা-বিক্রি হয়েছে। তবে পরে বন্ধ করে দিয়েছি। এভাবে কত দিন চলতে হবে—বুঝতে পারছি না। আমাদের কাছে তো গচ্ছিত টাকা নেই যে ঘরে বসে বসে সেগুলো খরচ করব। এখন সংসার চালানোই দায় হয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে নগরীর সাহেব বাজার, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন শোরুমগুলোও গতকাল দুপুরে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে টিসিবির খোলা পণ্যের ট্রাকে পেঁয়াজ, তেল ও চিনি কিনতে মানুষের ঢল দেখা গেছে। এ সময় পুলিশ গিয়ে কোথাও কোথাও লাইনে দাঁড়ানো লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেন।

মন্তব্য