kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

মাধবপুরে এডিপির প্রকল্প প্রণয়নে অনিয়ম

সুবিধাবঞ্চিত চা শ্রমিকদের জন্য রাখা হয়নি কোনো বরাদ্দ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাধবপুরে এডিপির প্রকল্প প্রণয়নে অনিয়ম

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্প প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকার ঘোষিত নিয়ম-নীতি না মেনে গোপনে কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে এবারের এডিপিতে মাধবপুর উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত পাঁচটি চা বাগানের চা শ্রমিকদের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তাই সংশোধন করে পুনরায় তালিকা প্রকাশ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন চা শ্রমিক নেতারা। 

মাধবপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মজিব উদ্দিন তালুকদার ওয়াসিম বলেন, ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, তা আমাদের জানানো হয়নি। উপজেলা চেয়ারম্যান এককভাবে এর তালিকা প্রণয়ন করেছেন। উপজেলা পরিষদের সভায় বিস্তারিত প্রকাশ করার কথা থাকলেও প্রকল্প প্রণয়নে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি চা বাগানে সুবিধাবঞ্চিত চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য প্রকল্প করার নির্দেশ থাকলেও চা শ্রমিকদের উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এডিপির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

বহরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান বলেন, ‘মাধবপুরে এডিপির বরাদ্দের পরিমাণ ও প্রকল্প উন্মুক্তভাবে করা হয় না। সভা ডাকা হলেও বিস্তারিত জানানো হয় না। শুধু ইউপি চেয়ারম্যানদের চার-পাঁচটি প্রকল্প নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে করে দিতে বলা হয়। কিন্তু বিস্তারিত কিছুই জানানো হয় না। মাধবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহজাহান একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি তাঁর নেতাকর্মীদের খুশি করতে তাঁদের বাড়িঘরের কাছে প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে থাকেন।’

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আপন মিয়া বলেন, ‘মাধবপুরে এডিপির কাজ নিয়ে কোনো আলোচনা হয় কি না জানি না। উপজেলা চেয়ারম্যান তাঁর মতো করে প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকেন।’

ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ‘এডিপির ব্যাপারে আমরা শুধু কাগজে-কলমে রেজল্যুশন দিয়ে থাকি। প্রকল্প রাখা না রাখা উপজেলা চেয়ারম্যানের হাতে।’

চা শ্রমিক নেতা রবীন্দ্র গৌড় বলেন, ‘চা শ্রমিকরা সব সময় বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। কিন্তু এত বড় উন্নয়ন প্রকল্পে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এটি খুবই হতাশাজনক।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনুভা নাশতারান বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ভালো বলতে পারবেন। আর এডিপি প্রকল্পে চা শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ না থাকলেও অন্য প্রকল্প থেকে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে।’

এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মো. শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘নিয়ম হচ্ছে উপজেলা পরিষদের সভায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সব সদস্যকে নিয়ে আলোচনা করে তালিকা প্রস্তুত করা। তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা