kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

বিচার হয়নি সাত বছরেও

সুন্দরগঞ্জে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব, চার পুলিশ হত্যা

শেখ মামুন উর রশিদ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ব্যাপক তাণ্ডব চালান দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে বামনডাঙ্গা বন্দরে দোকানপাট, বাড়িঘর, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও রেলস্টেশন জ্বালিয়ে দেন তাঁরা। তা ছাড়া রেললাইন উপড়ে ফেলে যোগাযোগ বিছিন্ন করা হয়। এমনকি সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়কের কয়েক হাজার গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করা হয়। তাদের নারকীয় তাণ্ডব থেকে রক্ষা পাননি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যও। নির্মম পিটুনিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের চার পুলিশ সদস্য।

নিহত পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন রংপুরের তোজাম্মেল হক, কুড়িগ্রামের হযরত আলী, বগুড়ার বাবলু মিয়া ও গাইবান্ধার নাজিম উদ্দিন।

জামায়াত-শিবিরের সেই নারকীয় তাণ্ডবের সাত বছর পূর্ণ হলো আজ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ২৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। দীর্ঘদিনেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহতদের স্বজনরা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘মামলাটি এখন বিচারিক কার্যক্রমে রয়েছে। ৭৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। তবে আশা করি, মামলার রায় দ্রুত ঘোষণা করা হবে।’

তা ছাড়া কনস্টেবল তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন কয়েকবার এসআই পদে আবেদন করেও বাদ পড়েন। বারবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দারস্ত হয়েও চাকরি পেতে ব্যর্থ হন তিনি। এভাবে তাঁর চাকরির বয়সই শেষ হয়ে যায়। এখনো চাকরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন তোজাম্মেল হকের মেয়ে তাজমিন আক্তার। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে মাস্টার্স করে এসআই পদে আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষায় পাস না করায় বাদ পড়েন তিনিও।

নিহত কনস্টেবল হযরত আলীর সন্তান ছোট থাকায় তাঁর স্ত্রী লায়লা বেগমকে বেসরকারি চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু তিনিও চাকরি পাননি।

চাকরি মেলেনি নিহত কনস্টেবল নাজিম উদ্দিনের স্বজনেরও। তাঁর দুই মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে কারো ভাগ্যেই চাকরি জোটেনি। ছোট ছেলে ফরিদুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহত হন নাজিম উদ্দিন।

এ বিষয়ে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, পুলিশের কনস্টেবল পদে একজনের ছেলেকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। অন্য পরিবারগুলোকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে কেউ লিখিত পরীক্ষায় পাস না করলে চাকরি দেওয়ার সুযোগ নেই।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘তাঁদের চাকরি না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এর আগে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়েছি। তার পরও পরিবারগুলো যেন চাকরি পায়, বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা