kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

ধুনটে চর কেটে আ. লীগ নেতার মাটি বাণিজ্য!

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধুনটে চর কেটে আ. লীগ নেতার মাটি বাণিজ্য!

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বর্ষায় ড্রেজার বসিয়ে চলে বালু উত্তোলন আর শুষ্ক মৌসুমে এক্সকাভেটর ও কোদাল দিয়ে কাটা হয় মাটি। কয়েক বছর ধরে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নে যমুনা নদীর বুকে চলছে এমন যজ্ঞ। এই ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতি বা ইজারাও নেওয়া হয়নি।

বালু ও মাটি কেটে মোটা অঙ্কের বাণিজ্য করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম। তিনি ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। যত্রতত্র ও ইচ্ছামতো মাটি-বালু উত্তোলনের ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে অনেক স্থানে নদীভাঙনের ঝুঁকি থাকছে। প্রকাশ্যে এসব চললেও নীরব রয়েছে প্রশাসনসহ পরিবেশ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

যমুনার পানি কমে নদীর পশ্চিম পাশের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। তীর ও বুক কেটে মাটি উত্তোলন শুরু হয়েছে। মাটি কেটে বিক্রি করছে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প, ইটভাটা আর বসতভিটার জন্য। কোথাও এক্সকাভেটর দিয়ে, কোথাও শ্রমিক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও ট্রাক্টর মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি গাড়ি মাটি ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। মাটি কাটার ফলে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভাণ্ডারবাড়ী ও ভূতবাড়ী গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করেছে পাউবো। এখানে নদীর ভাঙন ঠেকাতে পারলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষা হবে। এ কারণে ২০১৭ সালে চার কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে। এই প্রকল্প এলাকা থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী, রফিকুল, জাহাঙ্গীর, রাজ্জাকুল কবিরসহ অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম। চর থেকে মাটি কেটে গর্ত করছে। এখন এর কোনো বিরূপ প্রভাব বোঝা যাবে না। তবে বর্ষা মৌসুমে এই চর পানিতে তলিয়ে যাবে। নদীতে প্রবল বেগে স্রোত বইবে। তখন মাটি কাটার এই গর্তে পানি ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প নদীতে বিলীন হবে।

উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় একটি ঈদগাহ মাঠ ভরাটের জন্য ৮৪ হাজার ঘনফুট মাটি প্রয়োজন। এরই মধ্যে চর থেকে কিছু মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। যমুনার চর থেকে মাটি কেটে অন্য কোথাও বিক্রি করা হয় না। তবে চর থেকে মাটি কাটার জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়নি।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বলেন, যমুনার চর থেকে এভাবে মাটি কেটে নিলে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ক্ষতি হবে। এ কারণে প্রকল্প এলাকা থেকে মাটি কেটে নিতে নিষেধ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা