kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

কৃষকের নাম জালিয়াতি করে ধান বিক্রি চক্রের

হাতীবান্ধায় কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চলছে অনিয়ম

মাহমুদ হাসান, হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট)   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষকের নাম জালিয়াতি করে ধান বিক্রি চক্রের

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে একটি চক্র কৃষকের নাম জালিয়াতি করে ধান বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত কৃষকরা।

এ ঘটনায় সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পাঁচ কৃষক। তাঁরা হলেন উপজেলার পশ্চিম ফরিকপাড়া গ্রামের মৃত মোকলেছার রহমানের স্ত্রী জাহানারা খাতুন, বুড়া সারডুবি গ্রামের আবু সামা, একই গ্রামের সাবু আলম, উত্তর জাওরানী গ্রামের সুধাংশু রায় ও একই গ্রামের সুজন চন্দ্র।

জানা গেছে, বর্তমান সরকার প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য লটারির মাধ্যমে নাম বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়। যাঁদের নাম লটারিতে ওঠে তাঁরাই শুধু গুদামে ধান দিতে পারেন। সে অনুযায়ী হাতীবান্ধা উপজেলায়ও লটারির মাধ্যমে কৃষকদের নাম বাছাই করা হয়। এতে উপজেলার দুই হাজার ২০৮ জন কৃষকের নামের একটি তালিকা করা হয়।

গুদামে ধান দেওয়া একজন কৃষক জানান, সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে গিয়ে নানা ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। লটারি হওয়ার পর স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়ণ নিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছ থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হয়। সেই আবেদনপত্রের সঙ্গে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও কৃষি প্রণোদনা কার্ডের ফটোকপি যুক্ত করে জমা দিতে হয় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে। যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে জমা দিতে হয় খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে। এরপর কৃষককে খুলতে হয় ব্যাংক হিসাব। এত ঝামেলা পেরিয়ে আসার পর খাদ্যগুদামে ধান দিতে পারবেন কৃষকরা। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে দাম পাবেন না। ধান বিক্রির পর বিলের কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য আবারও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে যেতে হয়। খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর মিললে যেতে হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার টেবিলে। তাঁর স্বাক্ষর নেওয়ার পর বিলের কাগজ ব্যাংকে পৌঁছালে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে। এভাবে পদে পদে নানা বাধা পেরিয়ে একজন কৃষক ধান বিক্রির টাকা হাতে পান।

ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেন, কাগজপত্রের নানামুখী ঝামেলা উতরে তাঁরা ধান নিয়ে গুদামে গিয়েছিলেন। কিন্তু খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা জানান, ক্রয়তালিকা অনুযায়ী তাঁদের ধান কেনা হয়ে গেছে। এমনকি বিলও পরিশোধ করা হয়েছে। তাই তিনি আর তাঁদের ধান কিনতে পারবেন না।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে স্থানীয় প্রভাবশালী ও চালকল মালিকদের একটি চক্র সুবিধাভোগী কৃষকদের নাম জালিয়াতি করে খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী কৃষক সুধাংশু রায় বলেন, ‘কে বা কারা যেন আমাদের নাম ব্যববহার করে ধান দিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। পরে আমরা ধান গুদামে রেখে চলে এসেছি। এর সঠিক বিচার চাই।’

হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিরু বলেন, ‘পাঁচজন কৃষক আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁদের নিয়ে আমি খাদ্যগুদামে গিয়েছিলাম। কিন্তু খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা বলেন, তাঁদের ধান এরই মধ্যে কেনা হয়েছে। তাই তাঁদের ধান আর নিতে পারবেন না। এ কথা শুনে আমি তাঁদের ইউএনও এবং ডিসি মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা খাদ্যগুদামের খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাইয়ুম খান বলেন, ‘ধান কেনা নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছিল। তা সমাধান করে নেওয়া হয়েছে।’ হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন বলেন, ‘কৃষকদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য