kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

কোটি টাকার তথ্য গোপন ওসির, দুদকের মামলা

আরেকটিতে শিক্ষা কর্তাসহ আসামি ৯

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোটি টাকার তথ্য গোপন ওসির, দুদকের মামলা

ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন

দিনাজপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বীরগঞ্জ থানার সাবেক ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা পারভিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এক কোটি ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার তথ্য গোপন ও এক কোটি ৫৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার উৎস না দেখানোর অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ছয় শিক্ষককে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া এবং জাতীয়করণের মাধ্যমে বেতন ও উৎসব ভাতা তুলে আত্মসাৎ করার অভিযোগে সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম মামলা দুটি করেছেন। একই কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান গতকাল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রসঙ্গত, ওসি জাহাঙ্গীর বর্তমানে রাঙামাটি থানায় দায়িত্ব পালন করছেন। আর শাহজাহান এখন রংপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

মামলা দুটির বাদী দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক জিন্নাতুল বলেন, ‘ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন অবৈধ পথে উপার্জন করে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর দেওয়ান খামার মৌজায় চারতলা ভিত্তি দিয়ে তিন তলা ও রংপুর শহরের মুলাটোল মহল্লার ৩/৩ নম্বর সড়কের ২০০ নম্বর বাসার চারতলা সম্পন্ন করে পাঁচতলা আংশিক স্ত্রী আনোয়ারা পারভিনের নামে নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া তাঁদের নামে-বেনামে অনেক অবৈধ সম্পদ আছে—এমন একটি অভিযোগ ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দুদক অফিসে জমা হয়। পরে দুদক ওসি জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারাকে সম্পদের বিবরণ জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেয়। পরে তাঁরা সম্পদের বিবরণ জমা দিলে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্ত শেষে (দুদক) জানতে পারে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা যে সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন সেখানে তাঁরা এক কোটি ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার তথ্য গোপন করেছন। এ ছাড়া তাঁরা এক কোটি ৫৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার উৎস দেখাননি। সম্পদের তথ্য গোপন ও সম্পদ অর্জনের উৎস না দেখানোর অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে দুদক আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। অভিযোগপত্র (জমা) দেওয়ার জন্য তদন্ত চলছে।’

আরেকটি মামলার বিষয়ে তিনি জানান, সদর উপজেলার সেনেহারী কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আখানগর ধনীপাড়া কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দেহন কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছয় শিক্ষককে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া ও জাতীয়করণ হয়েছে।

পরে সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান সিদ্দিক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সরকার, অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. সলিম উদ্দিন, কান্দরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিলি রানী রায়, সেনেহারী-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুইটি নারী রায়, চাপাদহ-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাহিদা পারভীন, মাধবপুর যোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লতা বালা, ৮ নম্বর আখানগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কৌশলা রানী রায় ও ৩৮ নম্বর কাশিডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরতি রানী রায় পরস্পর যোগসাজশে ৪০ লাখ ৪২ হাজার ৯২০ টাকা বেতন ও উৎসব ভাতা তুলে আত্মসাৎ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তথ্য অনুসন্ধান শেষে এ মামলা করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা