kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

আলমডাঙ্গায় অজানা রোগে গরুর মৃত্যু

এসব গরু প্রথমে ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারপর কাঁপতে কাঁপতে মারা যাচ্ছে

আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় গত এক সপ্তাহে অজানা রোগে ৯টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিষেধকেও প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে কিছু গরু হঠাৎই কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার মিনিট কয়েকের মধ্যে মারা যাচ্ছে। এসব গরু প্রথমে ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তারপর কাঁপতে কাঁপতে মারা যাচ্ছে। অনেক গরু আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ বুঝতে পারার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছে।

আসাননগর গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে মিনহাজ উদ্দীনের দুটি, মঞ্জু মেম্বারের একটি, রেজাউল করিমের একটি, আব্দুর রহিমের একটি, হামিদুল ইসলামের একটি, রাকিবুল ইসলামের একটি, বাবুর একটি এবং তুফান আলীর একটি গরু মারা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয় করতে না পারলেও অনুমাননির্ভর প্রতিষেধকের নির্দেশনা দিচ্ছেন। তাতে মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। অনেকেই নিজেদের গবাদি পশু বাঁচাতে কবিরাজি ঝাড়ফুঁক ও গরুর গলায় তাবিজ ঝুলিয়েছে।

তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলেও সাড়া মেলেনি। ব্যক্তিগতভাবে গ্রাম্য চিকিৎসক ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ডিপ্লোমা ডাক্তারদের পরামর্শে প্রতিষেধক প্রয়োগ করেও ফল হয়নি। অজানা এ রোগের প্রকোপ মারাত্মক হলে গত সোমবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে গ্রামে ক্যাম্পেইন করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার আবার দুটি গরুর মৃত্যু হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ডিপ্লোমা ডাক্তার শহিদুল ইসলামকে এই ঘটনা জানিয়ে গ্রামে ঘুরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তিনি যাননি। বসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন।

গ্রামের অনেকেই জানান, অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে আকস্মিকভাবে গরু মারা যাওয়ার ঘটনায় কৃষকরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কোনো প্রতিষেধক ব্যবহার করেই আক্রান্ত গরু সুস্থ করা যাচ্ছে না। সে কারণে অনেকে নিজের গরু অন্য গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল্লাহ হিল কাফি বলেন, ‘গরুর মৃত্যুর খবর পেয়ে গত সোমবার আমরা প্রায় ৪০টি বাড়িতে গিয়েছিলাম। ক্যাম্পেইন করেছি। মূলত পানিশূন্যতার কারণে গবাদি পশু মারা যাচ্ছে। তা ছাড়া ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গ্রামের মানুষের কুসংস্কারও রয়েছে। পরামর্শসহ গ্রামে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ দেওয়া হয়েছে। রোগের লক্ষণ দেখা মাত্র উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে খবর জানানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।’

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন আলী বলেন, কৃষকদের গরুর মৃত্যুর ব্যাপারটি মোটেও অবহেলার নয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কাজ করছেন। প্রয়োজনে রোগ শনাক্তের জন্য মৃত গরুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা