kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

শেষ মুহূর্তে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত

কিশোরগঞ্জে রেলের জমিতে অবৈধ স্থাপনা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরগঞ্জে শেষ মূহূর্তে এসে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পিছিয়ে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েও রেলের জমি দখলমুক্ত করার জন্য মাঠে গেলেন না তাঁরা। অথচ গতকাল রেলের জমি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ও উচ্ছেদ অভিযান শুরুর কথা ছিল।

এ ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার কারণে আপাতত অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। তবে এলাকার সচেতন মহলের দাবি, দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতেই এমনটি করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেলের কানুনগো রুহুল আমিন জানান, কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় রেলের বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি বেদখল হয়ে আছে। সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়ন থেকে শহরের একরামপুর এলাকায় অন্তত সাড়ে তিন শ অবৈধ দোকানপাট ও অবকাঠামো চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত এগুলোই ভেঙে ফেলার কথা ছিল।

কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার জয়নাল মিয়া জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে শহরে মাইকিং করে রেল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে। রেলের তোড়জোড় দেখে অনেকে স্বেচ্ছায় দোকানপাট ও অবকাঠামো ভেঙে নিয়ে যেতে থাকে।

কিন্তু গতকাল দুপুরে রেলস্টেশন ও একরামপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থাপনায় এখনো ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। অভিযান স্থগিত হওয়ার খবরে স্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা খুবই খুশি।

একরামপুর এলাকার ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রেলের জায়গায় ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য বছরে প্রতি বর্গফুটের জন্য ৩৬ টাকা হারে ভাড়া দিতে হচ্ছিল। এখন উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।’

জানা যায়, সোমবার রাতে উচ্ছেদের যন্ত্রপাতি ও শ্রমিক পাঠানো হয়েছিল কিশোরগঞ্জে। কিন্তু অভিযান স্থগিত হওয়ায় গতকাল সকালে সব কিছু ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ের ভূমি, ইমারত ও ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। এর মধ্যে লোকজন যে কয়টা দিন সময় পাবে, তাতে নিজেরা স্থাপনা সরিয়ে নিতে পারবে।’

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘কয়েক দিন পর উচ্ছেদ অভিযান হবে। এর আগে লোকজন তাদের স্থাপনা ও জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। এ সময়টুকু পাওয়ায় তাদের মধ্যে উচ্ছেদের সময় কোনো ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকবে না বলে মনে করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা