kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতাল

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতাল

জেলার ২২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ (সামেক) হাসপাতাল চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। মেডিক্যাল কলেজ থেকে এরই মধ্যে তিনটি ব্যাচের শিক্ষার্থী পাস করে বেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েক বছর আগেই সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলেও অত্যাবশ্যকীয় জরুরি বিভাগসহ ৫০০ শয্যার হাসপাতালটির প্রায় পুরোটাই অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। অন্যদিকে জরুরি বিভাগসহ ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও হাতে-কলমে শিক্ষার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ক্লিনিক্যাল ক্লাসের সুযোগ ছাড়াই পুঁথিগত বিদ্যার ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে তাঁদের। অন্যদিকে পূর্ণাঙ্গ জনবল পদায়ন ছাড়াই চলছে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ। স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষর্থীদের দাবির মুখে সরকারের উচ্চ মহল থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গরূপে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু করা হয়নি।

সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩০৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগসহ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু হওয়ার কথা থাকলেও শুধু বহির্বিভাগসহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু হয়। ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জনবল কাঠামোতে ৫৮ জন চিকিৎসক কর্মকর্তার পদের মধ্যে মাত্র ১৮ জন কর্মরত। ৪১ জন কর্মচারীর পদের মধ্যে ১৮ জন কর্মরত। আর ৮৬ জন নার্সের বদলে কর্মরত ৭৮ জন।

অন্যদিকে জরুরি বিভাগ চালু না হওয়া এবং সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট না থাকায় আন্ত বিভাগে চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ও প্রভাষক দ্বারা অনিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে মাত্র। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া তাঁদের পাওয়া যায় না।

ইন্টার্ন চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম জানান, জরুরি বিভাগসহ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু না হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি বেড়ে চলেছে। কয়েক কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহ থাকলেও ব্যবহার না করায় তা বিকল হয়ে পড়ছে।

সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জনবল কাঠামো নিয়োগ দিয়ে জরুরি বিভাগসহ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু করা গেলে চিকিৎসা সংকট কমবে। সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সম্পূর্ণ পদ সৃষ্টি ও পূর্ণাঙ্গ জনবল পদায়ন হলে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব।’

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পদ্ধতিগত জনবল পদায়ন ও জরুরি বিভাগ চালু করা হলে সাধারণ মানুষকে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আনিসুর রহিম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর গত ১০ বছরে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে সামেক হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। কিন্তু জরুরি বিভাগসহ পূর্ণাঙ্গভাবে হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় অব্যবহূত অবস্থায় সব কিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা